বাবা মারা গেছে, মা অথর্ব! শিয়ালদা থেকে ব্যারাকপুর পাঁপড় বিক্রি করে সংসার টানছে ছোট্ট দেবজিৎ

আমাদের এই ভারতবর্ষে যাতায়াতের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ট্রেন (Indian Railway)। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বেশিরভাগ খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের কর্ম ক্ষেত্রে যাওয়া এবং সেখান থেকে বাড়ি ফেরা উভয় ক্ষেত্রেই ট্রেনকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যেহেতু এখানে প্রত্যেকদিন বহু মানুষের সমাগম ঘটে তাই এই যানবাহনটাকে জীবিকা নির্বাহের প্রধান পথ হিসেবে বেছে নেয় অনেকেই। যত দিন যাচ্ছে হকার বৃত্তি আরো বেশি করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রত্যেকদিন নিয়ম মাফিক ট্রেনে উঠে যাত্রীদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করা এবং সারাদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকির সাথে লড়াই করে চলা, এটাই তাদের প্রধান কাজ। তবে জানলে অবাক হতে হয় এই লড়াইয়ে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক করা নয় অনেক বাচ্চারাও শামিল হয়েছে। তারা হাত পেতে ভিক্ষে করার বদলে কোন একটা ছোটখাটো ব্যবসায় নিজেদেরকে নিযুক্ত করেছে এবং সাহসিকতার সাথে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলেছে। ঠিক সেই রকমই একটি শিশু দেবজিত সহ।

এইদিন একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিওতে উঠে এলো এই ছোট্ট বাচ্চার জীবন যুদ্ধের কাহিনী। যা শুনলে চোখে জল আসবে আপনারও। খেলাধুলার বয়সে এক ট্রেন থেকে অন্য ট্রেনে পাঁপড় বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে ১২ বছরের এই ছোট্ট বাচ্চাটি। এই বয়সে যেখানে, একটি বাচ্চা হাজারো একটা বায়না করে এবং পরম আনন্দের শৈশবের সুখ উপভোগ করে সেখানে এই ১২ বছরের ছোট্ট ছেলেটি মায়ের মুখে অন্ন তুলে দিতে দিন রাত এক করে এক ট্রেন থেকে অন্য ট্রেনে পাঁপড় বিক্রি করে বেড়াচ্ছে।

সংসার চালাতে হারালো শৈশব

বাচ্চা ছেলেটির থেকে জানা যায়, তার নাম দেবজিৎ সাহা। বয়স ১২। সংসারে রয়েছে মা এবং আরো দুই ভাই। তাদেরও বয়স ১৩ কি ১৪। তিন ভাই মিলেই ট্রেনে পাঁপড় বিক্রি করে সংসার চালায়। ১২ বছরের ছোট দেবজিৎ ছোটবেলায় নিজের বাবাকে হারিয়েছে। তার মা আগে লোকের বাড়িতে কাজ করতো কিন্তু এখন কোমরে ব্যথার জন্য কাজ করতে পারে না। পুরোপুরি ভাবেই এই তিনটি শিশুর ওপরেই নির্ভরশীল তার মা। এমন অবস্থায় সব ছেড়ে সংসার বাঁচাতে এই কঠিন পথে হেটেছে তিন শিশু।

সংসারের বোঝা কেড়ে নিচ্ছে শৈশব। কিন্তু তারপরেও মুখে লেগে রয়েছে এক অমলিন হাসি। সাড়ে চার বছর ধরে এই ব্যবসা করছে এই ছোট্ট বাচ্চাটি। শিয়ালদা থেকে ব্যারাকপুর এটাই তার ব্যবসার এলাকা। প্রত্যেকদিন নিয়ম করে পাঁপড় নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এই তিন শিশু। তারপর সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সুস্থ সবল থাকতেও যেখানে মানুষ ভিক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়, ঠিক সেইখানে এত অল্প বয়সেই সৎভাবে বেঁচে থাকার লড়াই লড়ছে দেবজিৎ।