শো-র শুরু থেকেই বিগ বসের (Bigg Boss) ঘরে সৃজলা, রাজবীর এবং নন্দিনীর ত্রিমুখী সমীকরণ এক অন্য মোড় নিয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই এই সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে ওঠে। সৃজলাকে কেন্দ্র করে নন্দিনী ও রাজবীরের মধ্যে শুরু হয় তুমুল অশান্তি। নন্দিনীর মনে হতে থাকে যে রাজবীর যেন তার চেয়ে সৃজলাকেই বেশি গুরুত্ব ও অ্যাটেনশন দিচ্ছে, আর এই নিরাপত্তাহীনতা থেকেই দানা বাঁধে সন্দেহ ও ক্ষোভ।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সৃজলা স্পষ্ট দাবি করে যে, সে নিজে থেকে কখনো রাজবীরের সঙ্গে কথা বলতে যায় না; বরং রাজবীর নিজেই তার কাছে এসে কথা বলে। কিন্তু সৃজলার এই কথায় কান দিতে নারাজ নন্দিনী। সে রাজবীরের ওপর চটে যায় এবং দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি চরমে ওঠে। কার প্রতি কার মনোযোগ বেশি, তা নিয়ে দুজনের এই ঠান্ডা লড়াই ঘরের পরিবেশকে আরও ভারী করে তোলে।
কথা বলতে বলতে পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে তা তীব্র ঝগড়ায় রূপ নেয়। উত্তেজনার বশে নন্দিনী সব সীমা পার করে ফেলে। সে শুধু রাজবীরকে মেজাজ হারিয়ে কটু কথাই শোনায়নি, এক পর্যায়ে গিয়ে সে রাজবীরের গায়ে পর্যন্ত হাত তোলে! ঘরের ভেতরে এমন শারীরিক আগ্রাসন দেখে অন্য প্রতিযোগীরাও রীতিমতো অবাক ও স্তব্ধ হয়ে যান।
এই ঝামেলার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘরে নেমে আসে এক গভীর শোকের ছায়া। হঠাৎ করেই ঝিলামের মেডিকেল রিপোর্ট এসে পৌঁছায়, যা দেখে ডাক্তাররা তাকে অবিলম্বে এই খেলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির কথা মাথায় রেখে বিগ বস তাকে শো ছেড়ে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রামের নির্দেশ দেন। কারোরই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না যে এত দ্রুত এমন একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ঝিলমের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হলো না শেষ রক্ষা! ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়েও টিকতে পারলেন না অনুষ্কা! ঘর ছেড়ে বিদায় নিল কুইন!
ঝিলামের এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়াটা ঘরের কেউই মেনে নিতে পারেননি। তার প্রস্থানে ঘরের প্রতিটি সদস্য ভেঙে পড়েন, শুরু হয় কান্নাকাটি। বিশেষ করে নিরঞ্জনের অবস্থা ছিল সবচেয়ে করুণ; তার সবথেকে প্রিয় এবং কাছের বন্ধুকে এভাবে হঠাৎ বিদায় নিতে দেখে সে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি এবং অঝোরে কেঁদে ফেলে। ঝিলামের খালি বিছানাটা যেন গোটা ঘরের বাতাসকে ভারী করে তোলে।





