মিঠাইয়ের সঙ্গে শাক্য এবং সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিষ্টির সুন্দর মুহূর্ত দেখে মুগ্ধ দর্শক! মিঠাইয়ের কিছু মনে না পড়লেও চারজনকে একসাথে দেখে শান্তি হচ্ছে, এমনটাই বলছে ভক্তরা

বাংলা টেলিভিশনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক হলো ‘মিঠাই’। এই মুহূর্তে জি বাংলার এই ধারাবাহিকটি সবচেয়ে পুরনো ধারাবাহিক বাংলা টেলিভিশন জগতে। দীর্ঘ দু বছরের বেশি সময় ধরে টিভির পর্দায় রাজ করছে মিঠাই। তবে সম্প্রতি মিঠাই শেষ হওয়ার একটি জল্পনা উঠেছে। শোনা যাচ্ছে এই অত্যাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকটির মেয়াদ আর মাত্র এক মাস। তবে ধারাবাহিক কর্তৃপক্ষ বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কারোর পক্ষ থেকেই এখনো এই বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। কিন্তু গল্প এগোতে এগোতে যেদিকে যাচ্ছে তাতেও মনে হচ্ছে আর বেশি দিন হয়তো মিঠাই ধারাবাহিকটিকে টানা হবে না। আবার ভক্তদের একাংশের মত ভালো টিআরপি থাকতেই যেন এই ধারাবাহিকটিকে শেষ করে দেওয়া হয়।

শুরুর প্রথম থেকে দারুণভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মিঠাই। সাংসারিক কুটকাচালি নেই অথবা পরিবারের মধ্যে কোন তথাকথিত ভিলেন নেই যা দেখে এই গল্পকে অত্যন্ত ভালবেসেছে দর্শক। এক গ্রামের মিষ্টি মেয়ে এবং শহরের যৌথ পরিবার এই নিয়েই গড়ে উঠেছিল মিঠাই ধারাবাহিকের গল্প। সেখান থেকে মিঠাই সিদ্ধার্থের জুটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বাংলা টেলিভিশন জগতের দর্শকের কাছে। তবে এখন সেই জুটির থেকেও বেশি তাদের দুই ছেলে মেয়ে শাক্য এবং মিষ্টির সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক দর্শকদের মুগ্ধ করছে।

প্রসঙ্গত মিঠাই ফিরে আসার পর থেকেই সিদ্ধার্থ, মিঠাই, শাক্য এবং মিষ্টি চারজনের একটা সুন্দর না বলা মনের টান দেখানো হচ্ছে গল্পে, যা দেখে মন্ত্রমুগ্ধকর এমন কথাই বলছে দর্শকরা। প্রথমে দেখানো হয়েছিল মিষ্টির সঙ্গে সিদ্ধার্থের মনের টান সে যখন জানতোই না আদতে মিষ্টি তার মেয়ে। না জেনেই নিজের মেয়েকে একেবারে আগলে রেখেছিল এবং ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিল সিদ্ধার্থ। সে সময় সিদ্ধার্থ আর মিষ্টি দুজনেরই অত্যন্ত প্রশংসা করেছিল দর্শক। তবে এখন মিঠাই ও শাক্যর সম্পর্কের প্রশংসা করছে সকলে। গল্প দেখানো হচ্ছে মিঠাইয়ের কিছুই মনে নেই এমনকি সে তার প্রিয় উচ্ছেবাবু থেকে শুরু করে প্রথম সন্তান শাক্যকেও ভুলে গেছে।

কিন্তু যবে থেকে মিঠাই মানোহরাতে এসে শাক্যর সামনাসামনি হয়েছে তবে থেকেই মিঠাইয়ের চোখে শাক্যর জন্য যে ভালোবাসা দেখা গেছে তা নিয়ে অত্যন্ত খুশি দর্শক। সম্প্রতি দেখানো হচ্ছে মিঠাই এখন মনোহরাতেই রয়েছে সে নিজে থেকেই মনে করতে চাইছে তার পুরনো কথাবার্তা। সেই সঙ্গে শাক্যকেও মায়ের আদরে ভরিয়ে দিচ্ছে। স্মৃতিশক্তি না ফিরে এলেও সে নিজের ছেলের থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারেনি। আর সেই ভালোবাসা টিভির পর্দায় ফুটে উঠছে এমনটাই মত দর্শকদের।

বাস্তব জীবনে এমনটাই দেখা যায় যে ছেলেরা ছোট থেকেই নিজের মায়েদের আদরের হয় আর মেয়েরা বাবাদের, সেটাই দেখানো হচ্ছে মিঠাই ধারাবাহিকেও। সিদ্ধার্থ যেভাবে এতদিন শাক্যকে আগলে আগলে রেখেছিল কিন্তু মিষ্টিকে কাছে পায়নি এবার সে সেই না পাওয়াটা মিটিয়ে দিচ্ছে। আর উল্টোদিকে ছোট্টবেলায় মাকে হারিয়ে শাক্য যে কষ্টটা পেয়েছে সেটা এবার মিঠাই তাকে ভুলিয়ে দেবে। বাবা মা আর দুই সন্তানের এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভক্তরা। মিঠাইয়ের কিছু মনে না পড়লেও এত সুন্দর করে এই সম্পর্ক গুলোকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ধারাবাহিকে যা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছে সকলে।