“আমায় খেতে দেন তাহলে সাক্ষাৎকার দেবো!” এই চরম দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে স্টারডামের চূড়ায় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী!

গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী তখনও বিনোদন জগতে পা রাখেনি। ফলত, মিঠুন নামটাও প্রাপ্তি হয়নি তাঁর। কলেজে পড়াকালীন সময় থেকেই এই অভিনেতা নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এদিকে স্বপ্ন সুপারস্টার হওয়ার। আজকের এই তারকার নাম মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। মিঠুনের সেই সময় থেকে বর্তমান কাল অবধিও বিনোদন জগতের দর্শকদের মধ্যে একটা তর্ক বিতর্ক চলতেই থাকে, তা হল অমিতাভ বচ্চন ও মিঠুন চক্রবর্তীর মধ্যে কে সব থেকে বেশি সেরা? অনেকের মতে, অমিতাভ বচ্চনকে নিজের হাতে তৈরি করেছেন কাদের খান আবার কারোর কারোর মতে মিঠুন আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে তা সমস্তটাই নিজের প্রচেষ্টায়।

এই মিঠুন চক্রবর্তী তখনও সেই অর্থে বলিউড জগতে পা রাখিনি তার আগেই তার ঝুলিতে এসেছিল জাতীয় পুরস্কার। মৃণাল সেনের ছবি ‘মৃগয়া’র হাত ধরে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেন এই অভিনেতা। শোনা যায়, জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার খবর পেয়েও দিল্লি যাওয়ায় বাধা ছিল তার জীবনে। সেই সময় রেখা তাঁকে স্পটবয় রূপে নিয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রী। জানেন কি একজন সাংবাদিক তার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন এই সময় অভিনেতা সাক্ষাতকারীকে বলেছিলেন, “আমি সাক্ষাৎকার দেবো, যদি আমায় খেতে দেন। কারণ আমি এখনও খাবার খাইনি”। আজকের স্টার মিঠুন চক্রবর্তীর সাফল্যের পিছনে রয়েছে অভাবনীয় পরিশ্রম, আত্মত্যাগ, চোখের জল। যা শুনলে যে কারোর চোখে জল এসে যাবে অনায়াসে।

Mithun Chakraborty, Pathikrit Basu, Tollywood, Actor, Director, মিঠুন চক্রবর্তী, পথিকৃৎ বসু, টলিউড, অভিনেতা, পরিচালক

বলিউড জগতে অভিনেতা হিসাবে পা দেওয়ার আগে অমিতাভ বচ্চনের ফাই ফরমাস খাটতেন তিনি। সেই সময় ‘দো আনজানি’ বলে একটি সিনেমাতে একটা ছোট চরিত্রের পাঠ তিনি। আর তারপর থেকেই বিভিন্ন সিনেমায় ছোট ছোট পাঠ পেতে পেতে তিনি হয়ে উঠেছেন আজকের মহাগুরু। প্রাথমিক দিকে, এই অভিনেতাকে দেখে অভিনেত্রীরা বলতেন মিঠুন হল ‘বি গ্রেড অভিনেতা’। সবার তুচ্ছ তাচ্ছিল কটুক্তি মেনে নিও দাঁতের দাঁত চিপে বলিউডের মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। অবশেষে একদিন শুটিংয়ে যাদের ব্যাগ বয়ে বেড়াতেন তাদেরই সম মর্যাদায় পাশে বসার অধিকার ছিনিয়ে নিলেন অভিনেতা।

বলিউডে অভিনেতার প্রথম সফল হিন্দি সিনেমা ‘মেরা রক্ষক’। অমিতাভ বচ্চনকেও টেক্কা দিতে শুরু করল বাংলার মিঠুন। প্রসঙ্গত বলা যায় ১৯৮৯ সালে মোট ১৯ টি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল মিঠুনকে। মিঠুনের ডিস্কো ড্যান্সার গানের তালে নাচের জন্য অনুরাগী তৈরি হয়েছিল দেশ পেরিয়ে বিদেশে। এক সময় জিতেন্দ্র বলেছিল “এই ছেলেটা অভিনেতা হলে আমি অভিনয় ছেড়ে দেব”, আজ তারই জয়কার দেশ বিদেশের মাটিতে। বলিউড তো বটেই এমনকি টলিউডের অনেক ছবি সাফল্য পেয়েছে মিঠুনদার হাত ধরে। শোনা যায় ‘স্বামীজি’ সিনেমা শুটিং চলাকালীন প্রতিটা দিন হব্বিসী খেয়ে দিন কাটিয়েছেন অভিনেতা। এই সিনেমায় অভিনেতা ছিলেন রামকৃষ্ণের চরিত্রে।

ভার্সেটাইলএই অভিনেতা নিজে সুপারস্টার হয়েও পুত্রের জন্য একটি সুযোগও তিনি করে দেন নি। মিঠুন বলেছেন, “যোগ্যতা থাকলেই নিজে করে দেখাও”। গোটা বিনোদন জগৎ জুড়ে স্বজনপোষণের চল থাকলেও নিজের বাড়িতে সেই বিষয়ে একটুও জায়গা নেই। তবে মানুষ কেবল ভালোতেই পরিপূর্ণ হয় তা নয়। ভালো খারাপ নিয়েই তৈরি হয় পরিপূর্ণ এক মানুষ। অভিনেতার প্রেম কাহিনী নিয়ে আজও চলে অনুরাগীদের মধ্যে বিস্তর চর্চা।

গুজব ছিল, অভিনয় জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা কে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন স্বয়ং দাউদ ইব্রাহিম। বাংলার মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট অর্থাৎ মিঠুন চক্রবর্তীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। শোনা যায় মিঠুনদা নাকি আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ডনের প্রেমিকাকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। আবার সেই বিপদের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন সঞ্জয় দত্ত। তবে এই কাহিনী কখনোই যাচাই করে দেখা হয়নি। অন্যদিকে শ্রীদেবী আবার মিঠুনের জন্য পাগল ছিলেন। মিঠুন শ্রীদেবীর প্রেমের গুঞ্জন আজও শুনতে পাওয়া যায়। তবে এইসব অনুগঞ্জনই মিঠুনের স্টারডাম কমাতে পারেননি।