‘আসল বন্দুক পেলে শিবুদাকেই গু’লি করতাম!’— পরিচালককে সরাসরি হুমকি! কেন এমন বললেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী?

টলিউডে এমন কিছু সম্পর্ক আছে যা সাপে-নেউলে বললেও কম বলা হয়। অনেকেই জানেন, তবে মুখে বলেন না। ঠিক এমনই এক সম্পর্কের ঝলক মিলল ‘উল্টোরথ’-এর দিনে, ‘রক্তবীজ ২’-এর কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার জিনিয়া সেনের কথায়। এদিন প্রকাশ্যে এল ছবির নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর লুক— হাতে বন্দুক, চোয়ালে দৃঢ়তা, দৃষ্টিতে জেদ। এই পর্দার নাম সংযুক্তা মিত্র।

কিন্তু মিমি হঠাৎ পরিচালকের দিকে বন্দুক তাক করার কথা বললেন কেন?

আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিনিয়া হাসতে হাসতে জানান, “‘আসল বন্দুক থাকলে শিবুদাকে গুলি করে দিতাম!’— এমনটাই বলেছিলেন মিমি, ছবির পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্দেশে।” যদিও এই কথা শুনে শিবু হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তবে, হঠাৎ এমন মন্তব্য কেন? জিনিয়া জানান, দোষ পরিচালকেরও কিছু কম নয়। শিবপ্রসাদ যতক্ষণ সেটে থাকতেন, মিমিকে ঠাট্টা-মশকরা করে চটাতেন। এতে মিমি রেগে গিয়ে মাঝেমাঝেই চেঁচামেচি শুরু করতেন। কখনও শুটিং মাঝপথে ছেড়ে দিতেন। আবার কিছু ক্ষণ পরে গজগজ করতে করতেই ফিরতেন ক্যামেরার সামনে। শুট শেষ হতেই ফের শুরু হত মিমির অভিযোগের পর্ব। পরিস্থিতি দেখে হেসে হেসে সেট ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন পরিচালক।

কাহিনিকার জানান, “মিমি খুবই পরিশ্রমী ও ভাল মনের মেয়ে। তবে একটু ছেলেমানুষী রয়েছে। তাই সহজেই রেগে যায়। কিন্তু ওর রাগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রাগ গিয়ে গেলে ফের আগের মতো মিশে যায় সবার সঙ্গে।”

তবে পরিচালক শিবুর উপর মিমির নাকি একটু অভিমানও ছিল। মিমি মাঝেমধ্যে আবেগঘন গলায় বলতেন, “শিবুদা শুধু আবীর চট্টোপাধ্যায়কেই ভালবাসে, আমাকে একটুও না!”

আরও পড়ুনঃ ‘মেয়েবেলা’র পর আবারও অভিনয়ে ফিরলেন ‘বীথি’, বড়পর্দায় কামব্যাক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের!

এই নায়িকা শুটিং চলাকালীন একেবারে অন্য মানুষ হয়ে যেতেন। শট নিখুঁত করার জন্য কোনও কষ্টই তাকে আটকাতে পারত না। যেমন, একবার একটি অ্যাকশন দৃশ্যে উপর থেকে লাফিয়ে পড়তে গিয়ে, তাঁর হার্নেস ঠিকমতো কাজ না করায় হাঁটু সজোরে আঘাত পায়। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠেছিলেন, কেঁদেও ফেলেছিলেন কিছু ক্ষণের জন্য। তবে নিজেই চোখ মুছে ফের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান মিমি। সেইদিন তাঁর পেশাদার মনোভাব দেখে প্রশংসা করতে বাধ্য হন শিবপ্রসাদ নিজেও। সবাইকে সামনে রেখে নিজের হাতে চাপড় দিয়ে সাধুবাদ জানান মিমিকে। এক কথায়, ঝগড়া-অভিমান-হাসি-কান্না— সব কিছু মিলিয়েই শুটিংয়ের দিনগুলো ছিল মজার এবং স্মরণীয়।