আলিয়া ভট্ট—বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। কেরিয়ারে একের পর এক হিট ছবি, প্রযোজনা সংস্থা খোলা, আবার মা হওয়ার পর নতুন ইনিংস—সব মিলিয়ে জীবনে ছন্দেই ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সুখেই যেন আচমকা এক বজ্রাঘাত! একেবারে ঘরের কাছের একজন, যাঁর ওপর শতভাগ ভরসা ছিল আলিয়ার, তিনিই নাকি তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ঠকিয়ে গিয়েছেন!
অভিনেত্রীর একান্ত ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তিই এতদিন ধরে সামলেছেন তাঁর সব ব্যক্তিগত ও প্রোফেশনাল দায়িত্ব। শুধু কাজের সহায়ক নন, একরকম পরিবারের সদস্যের মতোই ছিলেন। কেউ কল্পনাও করেননি, এমন একজনই নাকি নিজের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়েছেন!
২০২২ সালের মে মাস থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের অগস্ট পর্যন্ত—প্রায় দু’বছর ধরে চলেছে সেই লুকোচুরি খেলা। আলিয়ার প্রযোজনা সংস্থা ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে হদিস ছাড়া উধাও হয়ে গিয়েছে প্রায় ৭৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকারও বেশি! বছরের শুরুতে আলিয়ার মা সোনি রাজদান যখন জুহু থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, তখনই প্রথম প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি।
অবশেষে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বেদিকা শেট্টিকে, যিনি একসময় আলিয়ার প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী তথা সচিব ছিলেন। পাঁচ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে মুম্বইয়ে আনা হয়েছে এবং মঙ্গলবার আদালতে পেশও করা হয়।
বেদিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এবং সুপরিকল্পিত কৌশলে তিনি আলিয়া ও তাঁর সংস্থার বিশ্বাস ভেঙেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেনের গুরু দায়িত্বে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন বলেই অনুমান।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে ভর্তি ফাহিম মির্জা, শুটিং ফ্লোর থেকে সরাসরি অপারেশন টেবিলে! কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? এখন কেমন আছেন তিনি?
একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের আস্থা আর বিশ্বাসের জগৎ যখন এভাবে ভেঙে পড়ে, তখন সেটা কেবল অর্থনৈতিক নয়—একটা মানসিক আঘাতও বটে। আলিয়ার মতো একজন তারকার এত কাছের কেউ এরকম কিছু করে বসবেন, সেটা ভাবতেই পারেননি কেউ।





