চন্দন সেন—অভিনেতা তো বটেই, এক সাহসী যোদ্ধাও। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মৃত্যুকে হারিয়ে আবার জীবনে ফিরেছেন তিনি। আর সেই অভিজ্ঞতাই আজ তাঁকে অনেক বেশি সংবেদনশীল, অনেক বেশি সমাজ সচেতন করে তুলেছে। সম্প্রতি, নতুন প্রজন্মের লাইফস্টাইল নিয়ে বেশ কড়া মন্তব্য করলেন তিনি। টার্গেট? মোবাইল ফোন আর ডিজিটাল গ্যাজেটের প্রতি শিশুদের অস্বাভাবিক টান।
চন্দনের সোজাসাপটা মন্তব্য, “আজকের বাচ্চারা মাঠে যায় না, শরীরচর্চা করে না। সারাক্ষণ মোবাইল, ইউটিউব আর গেমসেই ডুবে থাকে। এতে করে ছোট থেকেই তাদের শরীর ভেঙে পড়ছে।” শুধু শারীরিক দিকই নয়, মানসিক দিক থেকেও বাচ্চারা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেই তাঁর মত।
কিন্তু কেন এত ক্ষোভ? কেন এত চিন্তা? চন্দন জানালেন, খেলার মাঠে নামলেই বাচ্চারা একটা জিনিস খুব জরুরি শেখে—‘হারতে শেখা’। আর এই শিক্ষা জীবনের বড় সম্বল। তিনি বলেন, “জীবনে হারটা দরকার। না হারলে শেখা যায় না। সব সময় জিততে অভ্যস্ত থাকলে ভবিষ্যতের সামান্য ব্যর্থতাও সহ্য করতে পারে না তারা।”
একটা ছোট উদাহরণ টানলেন তিনি—যখন তিনি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন, তখন থিয়েটারই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয় করেছেন, চিকিৎসকেরা বিনা পয়সায় সাহায্য করেছেন, বন্ধুরা পাশে ছিলেন। জীবনের প্রতি ভালোবাসা, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা আর আশেপাশের মানুষের সহানুভূতি—এই তিনটাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
এখন তিনি ভাবেন, নতুন প্রজন্মও যদি একটু বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে হয়তো তারা আরও শক্ত মনের মানুষ হয়ে উঠবে। শুধু মোবাইল বা গ্যাজেট নয়, জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, হার-জিত মেনে নেওয়া, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া—এই গুণগুলোই আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলবে।
সবশেষে, অভিভাবকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা খুব স্পষ্ট,
“বাচ্চাকে মোবাইল দিচ্ছেন? দিচ্ছেন, ঠিক আছে। কিন্তু মাঠে নামতে দিন। খেলতে দিন। হারতে দিন। জীবনটা আসলে মাঠেই শেখায়।”
আরও পড়ুনঃ প্রেম ভেঙেছে, কিন্তু সম্পর্ক শেষ হয়নি! ‘স্বামী’ থেকে এখন ‘দাদা’—সুদীপ-পৃথার নতুন সমীকরণে চমক নেটদুনিয়ায়!
একটা সময় ছিল যখন সন্ধে নামলেই মাঠে গিয়ে খেলত বাচ্চারা। এখন সন্ধে মানেই কানেকটেড থাকা স্ক্রিনে। চন্দন সেনের এই কথাগুলো কি আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায় না?





