শেষ হয়ে গেল এক যুগের যাত্রা! আচমকাই বিদায় বললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা প্রযোজক

সপ্তাহটা ভালো যাচ্ছিল না তাঁর। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল কয়েকদিন আগে থেকেই। এরপর দ্রুত তাঁকে ভর্তি করা হয় মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি, তাই অবস্থাও ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে আইসিইউ-তে রেখে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখেন। পরিবার, ভক্ত—সবাই প্রার্থনায় মন দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। গতকাল রাতেই চলে গেলেন তিনি, না ফেরার দেশে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সকলেই আশায় বুক বেঁধে ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থনাগুলো আর যথেষ্ট হলো না। তাঁর এই অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন দুনিয়া।

প্রয়াত অভিনেতা ও প্রযোজকের নাম ধীরাজ কুমার। হিন্দি সিনেমা ও টেলিভিশনের অতি পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। ৭৯ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। শুধু সিনেমা নয়, মাইথোলজিক্যাল ধারাবাহিক তৈরির জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ‘ওম নমঃ শিবায়’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক প্রযোজনার পিছনে তাঁরই সংস্থা ‘Creative Eye’। কিছুদিন আগেই নবী মুম্বইয়ের ইসকন মন্দিরের একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রশংসা করেছিলেন সনাতন ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

ধীরাজ কুমার ১৯৬৫ সালে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। সেই সময় রাজেশ খান্না ও সুভাষ ঘাইয়ের সঙ্গে একটি প্রতিভা অনুসন্ধান প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট ছিলেন তিনি। যদিও সেই শো-র বিজয়ী হন রাজেশ খান্না, তবুও ধীরাজ কুমার নিজের জায়গা করে নেন বলিউডে। ‘স্বামী’, ‘হীরা পন্না’, ‘এতকা রাজা’—এই সব ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল। শুধু হিন্দি নয়, ১৯৭০ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে তিনি ২১টি পাঞ্জাবি ছবিতেও কাজ করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি কি ভালো চুমু খেতে পারি?’— চুমুর ভিডিও পোস্ট করে প্রশ্ন ছুড়লেন দিব্যজ্যোতি দত্ত, কিসের চমক দিলেন অভিনেতা?

তাঁর মৃত্যু যেন এক যুগের অবসান। ইন্ডাস্ট্রি হারালো এক সৎ শিল্পী, এক দক্ষ নির্মাতা, আর দর্শক হারালো এক আপনজনকে।