‘৮ ঘণ্টা কাজ যথেষ্ট’, দীপিকার পাশে রাধিকা মদন! বললেন, ‘‘আমি দেখেছি এমনও ছবি হিট হয়েছে’’

দীপিকা পাড়ুকোন বনাম সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী রাধিকা মদন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দীপিকার নাম না করেই তিনি যে একপ্রকার দীপিকার পক্ষেই কথা বললেন, তা স্পষ্ট।

এই বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল দীপিকার শর্ত রাখা নিয়ে—পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘স্পিরিট’ ছবির জন্য তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না এবং পারিশ্রমিক হিসেবে চেয়েছেন ২০ কোটি টাকা। এই দাবি মানতে রাজি হননি নির্মাতারা। এরপর ছবিটি থেকে বাদ পড়েন দীপিকা। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয় নানা সমালোচনা, মন্তব্য, কটাক্ষ।

রাধিকা মদন, যিনি নিজে বহু বছর ধরে অভিনয় করছেন বলিউডে, সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আমি নিজে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করেছি, কিন্তু এমনও দেখেছি অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী ৮ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সেরে ফেলেন। তাঁদের জন্য ওই সময়ের মধ্যেই সব কাজ সাজানো থাকে। কাজ হয়, তাঁরা বেরিয়ে যান, ছবিও সফল হয়।’’

রাধিকা আরও জানান, এই সময়-পরিসরে কাজ শেষ করা সম্ভব—যদি পরিকল্পনা ঠিকঠাক থাকে। ‘‘যারা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে, তারা কম কথায়, কম সময়ে কাজ শেষ করে দেয়। শিডিউল আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়া হয়, স্ক্রিপ্ট নিয়ে প্রস্তুতি থাকে, আর সেখানেই কাজটা ঠিকঠাক এগিয়ে যায়।’’

এই প্রসঙ্গে পুরুষ ও মহিলা শিল্পীদের কাজের সময় নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির অসাম্যতাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘‘এটা একেবারেই নতুন কিছু নয়। অনেকেই তো চায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে একটা ব্যালান্স রাখতে। আমিও তাই চাই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পুরুষদের ক্ষেত্রে তা সহজে মেনে নেওয়া হয়, মহিলাদের নয়।’’

একসময় এক বছরে সাতটি ছবিতে কাজ করে নিজে কীভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাও শেয়ার করেন রাধিকা। বলেন, ‘‘একসময় আমার মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছিল। তখনই বুঝেছিলাম, জীবনে ভারসাম্য কতটা জরুরি।’’

অর্থাৎ দীপিকার মতো কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়াটা রাধিকার চোখে কোনও অপরাধ নয়—বরং এটা প্রয়োজন। শিডিউল, পরিকল্পনা, পেশাদারিত্ব—সবকিছু সঠিক হলে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সফলভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব—এটাই তাঁর বার্তা।