একটা রাত…
বেশ রাত। সময়টা তখন এমন, যখন বাড়ির সব দরজা জানলা বন্ধ। আলো নিভে গিয়েছে। কিন্তু তখনও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ছিলেন উত্তমকুমার! হঠাৎ আওয়াজ! কে যেন দরজার খিল খুলছে। মুহূর্তেই উত্তমকুমার চমকে উঠে বললেন, “সাবু, আমি বাথরুমে লুকোচ্ছি…”
হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। উত্তমকুমার, যিনি এককালে গোটা বাংলা দখল করেছিলেন, যাঁর এক ঝলকে সিনেমা হল হাউসফুল হয়ে যেত—তাঁকেই এক রাতে লুকোতে হয়েছিল অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির বাথরুমে!
এই গল্প শোনা গিয়েছিল শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের শো ‘অপুর সংসার’-এ, যেটা ২০১৭ সালে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। সেদিনের এপিসোডে হাজির হয়েছিলেন টলিউডের দুই জাদুকরী মুখ—সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আর মাধবী মুখোপাধ্যায়। আর সেখানেই শোনা যায় বহু না-শোনা গল্প।
সাবিত্রীদেবী নিজের মুখেই বলেছিলেন, “আমার বাবা খুবই কঠোর ছিলেন। রাতে ১০টার মধ্যে বাড়ি ঢুকতেই হতো। নিজেই দরজায় তালা দিতেন। সেদিন উত্তম এসেছিল অনেক রাতে। তখন তো বেরোনোর উপায় নেই! তাই ও বাথরুমে ঢুকে গেল আর বলল—‘সাবু আমি এখানে’। ও আমার বাবাকে খুব ভয় পেত।”
শুধু ভয় না, উত্তমকুমার কিন্তু সেই পরিবারটার সঙ্গেও গভীর বন্ধন গড়ে তুলেছিলেন। এমনও দিন গেছে, যখন রাতভর আড্ডা দিয়েছেন সাবিত্রী, তাঁর দিদি, জামাইবাবু আর মায়ের সঙ্গে—শুধু সাবিত্রীর বাবা তখন ঘরে ঘুমোচ্ছেন। ঘুম ভেঙে দরজা খুলতেই সবাই থমকে যায়! উত্তম তখন বাথরুমে ঢুকে গিয়ে নাকি চৌবাচ্চার মধ্যে বসেছিলেন। কল্পনাই করা যায়?
অপুর সংসারে আরও এক মজার গল্প শোনা যায় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের মুখে। কেন হিন্দি ছবিতে তাঁরা কাজ করেননি, এই প্রশ্নে মাধবী সোজাসাপটা বলেন, “ইচ্ছেই ছিল না। রাজ কাপুর অফার দিয়েছিলেন মেরা নাম জোকার-এ, কিন্তু ওর সঙ্গে তর্কে পেরে উঠিনি।”
আর সেই নয়নতারা ফুলের কাণ্ড?
মাধবী শ্যুটিংয়ে এলাহাবাদে গিয়েছিলেন। সঙ্গে উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া দেবী ও আরও অনেকে। সহ-অভিনেতা জহর রায় হঠাৎ একদিন পান খেতে গিয়ে আবিষ্কার করেন, তাঁদের ঘরের পাশে আরেকটা ঘরের দিকে ফুটো করা একটা পর্দা, যেটা দিয়ে দেখা যায় উত্তম-সুপ্রিয়া একসঙ্গে। জহরদা উত্তেজিত! সবাই বারণ করলেন। পরে মাধবীরা নিজেরাও একবার দেখতে যান তাঁরা ঠিকঠাক আছেন কিনা। তারপরই মাধবী মজা করে বলেন, “ওদের ঘরের ওপর থেকে নয়নতারা ফুল ফেলেছিলাম। বলেছিলাম, ‘সুপ্রিয়া, তোমার পতিসেবার দেবতারা তুষ্ট হয়ে পুষ্পবৃষ্টি করছেন!’”
আরও পড়ুনঃ ‘পরাণ দার সঙ্গে আমার সম্বন্ধ এসেছিল! কিন্তু বিয়েটা আর হল না’ সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের আবেগঘন স্বীকারোক্তি
সত্যি, সিনেমার পর্দায় যা দেখি তার থেকেও রঙিন হয় অনেক সময় পর্দার পিছনের গল্প। আর উত্তম-সাবিত্রী-মাধবী—এঁদের জীবনের এইসব মিষ্টি, দুষ্টু, স্নেহভরা মুহূর্তগুলো শুধু আমাদের মনে হেসে খেলে যায় আজও।





