সম্প্রতি বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে একটা আলোচনা বেশ জোরদার—বাংলা ভাষার ‘অপমান’ কি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছেছে? ঠিক এই সময়েই নিজের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। একটা ধারাবাহিকে কাজ করতে গিয়ে এমন কিছু সংলাপ বলতে বলা হয়েছিল তাঁকে, যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রূপাঞ্জনা লিখেছেন, “আমরা কি চুপ করে থাকব? কেউ যদি ঘুরিয়ে চটি মারে, তখন বুঝবে বাংলা ভাষা আর বাংলার মানুষকে অপমান করলে ফল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।” তিনি আরও লেখেন, “চটিচাটা, পিসি-ভাইপো—এই শব্দগুলো যাঁদের কাছ থেকে এসেছে, তাঁদের বোঝা দরকার, সময় ফুরিয়ে আসছে, কারণ এই ভাষাই আপনাদের মুখোশ খুলে দিচ্ছে।”
অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে? এই সময় অনলাইনের তরফে যোগাযোগ করা হলে রূপাঞ্জনা জানান, “‘অনুরাগের ছোঁয়া’র পর একটা নতুন ধারাবাহিকে কাজের অফার আসে। চরিত্রটা ছিল নেগেটিভ। সেটিং ছিল গ্রামবাংলার, যেখানে পিসি-ভাইপো সম্পর্কও দেখানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “চরিত্রের প্রয়োজনে অনেক কিছু করতে হয়, এটা ঠিক। কিন্তু সেটা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কোনও রাজনৈতিক দলের প্রোপাগান্ডা না হয়। শুটিংয়ের সময় পরিচালক ওই বিশেষ সংলাপগুলোই বারবার বলাতে চাইতেন।” রূপাঞ্জনা স্পষ্ট জানান, “আমি শুধু পিসি-ভাইপো শব্দ নিয়ে নয়, বরং যেভাবে কিছু শব্দকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে ব্যবহৃত করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই বলেছি। এই ভাষা বিভাজন তৈরি করে। শিল্পী হিসেবে আমি সেটা মেনে নিতে পারিনি।”
আরও পড়ুনঃ ‘যার জন্য সব ছাড়লাম, সে-ই থাকল না’, নাম না করেই দেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন শুভশ্রী, বললেন ‘৪টা বছর নষ্ট করেছি’
অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, “এই ধরনের সংলাপ যারা লেখে, তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। এটা তো শুধু একটুখানি স্ক্রিপ্ট নয়, এর মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মধ্যে একটা বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ভবিষ্যতেও এরকম কিছু হলে প্রতিবাদ করব, কাজ যাক, তবুও চুপ করে থাকব না।” রূপাঞ্জনার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং নিজের মত প্রকাশ করতে ভয় পান না এমন একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বরও।





