টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। সোমবার সকালে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন জয়। ১৫ অগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, ১৭ তারিখে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শেষ কয়েকদিন অবস্থার অবনতি হয়েই সোমবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রয়াত হন তিনি। এই কঠিন সময়ে পাশে আছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা। অভিনেতার সহকারী ছোটু জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন জয়। নিয়ম মেনে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
জন্ম ১৯৬৩ সালের ২৩ মে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। দেবশ্রী রায়ের বিপরীতে বিদেশ সরকারের প্রযোজনায় তৈরি অপরূপা ছবিতে তাঁর অভিষেক। প্রথম ছবিতেই নজর কাড়েন তিনি। আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত টলিউডে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়েছেন জয়। হীরক জয়ন্তী, জীবন মরণ, অভাগিনী, মিলন তিথি, সিঁথির সিঁদুর— এইসব ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। বিশেষ করে পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ও সুখেন দাসের ছবিতে তাঁর নায়কের চরিত্র ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
চুমকি চৌধুরীর সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছিলেন জয়। তাঁদের রোম্যান্টিক জুটি আশির দশকে দারুণ জনপ্রিয় হয়। অভাগিনী এবং হীরক জয়ন্তী ছবিতে তাঁদের রসায়ন আজও টলিউডপ্রেমীদের মনে রয়ে গেছে। ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সে সময় আলোচনার শেষ ছিল না। তবে পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দুজন আর একসঙ্গে পর্দায় ফিরতে চাননি। ধীরে ধীরে সিনেমা থেকেও কিছুটা দূরে সরে যান জয়।
অভিনয় জীবনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও পথ চলেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে বিজেপির প্রার্থী হয়ে শতাব্দী রায়ের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে লড়েছিলেন, যদিও হেরে যান। ২০১৯ সালে উলুবেড়িয়া থেকেও প্রার্থী হন। তবে ২০২১ সালে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন তিনি আর বিজেপির সঙ্গে নেই। রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয় থেকেও সরে আসায় পরবর্তী সময়ে আর সেভাবে আলোচনায় ছিলেন না।
আরও পড়ুনঃ নিভে গেল শেষ আশা! ধারাবাহিকে ঘটল না মিরাকেল, শববাহী গাড়ি করে চলে গেল প্লুটো ! প্লুটোর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না দর্শকরা! কেন এমন নিষ্ঠুর ট্র্যাক আনলেন লীনা গাঙ্গুলি? আবেগঘন প্রশ্ন নেটিজেনদের
তবে অভিনয়ের দুনিয়ায় তাঁর অবদান ভোলার নয়। টলিউডের এক প্রজন্মের কাছে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন রোম্যান্টিক নায়ক, আবার অন্য প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন সেই অভিনেতা, যাঁর ছবির গান, সংলাপ এখনও স্মৃতি উসকে দেয়। মাত্র ৬২ বছর বয়সে তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র মহলে। সহকর্মী, অনুরাগী এবং টলিপাড়া আজ একসুরে বলছে— বাংলা সিনেমা হারাল তার এক প্রতিভাবান মুখ।





