কপালে চন্দন, শববাহী গাড়িতে চলে গেল প্লুটোর নিথর দেহ! সন্তানহারা অনন্যার বুকভাঙা আর্তি, মিঠির চোখে শুধু অপরাধবোধ!

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক চিরসখা এখন একেবারে টানটান পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছে। কয়েক মাস আগে শুরু হলেও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা এই সিরিয়াল ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছে। তাঁর গল্পের ধরণ সবসময় একটু আলাদা, আর সেই কারণেই দর্শকরা চোখ সরাতে পারছেন না। গতকালের পর্বে যা দেখানো হয়েছে, তা যেন আরও এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়ে গেল।

প্লুটোর চলে যাওয়ায় মিঠির জীবনে যেন সর্বনাশ নেমে এসেছে। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না সে। শববাহী গাড়িতে প্লুটোকে তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্য যেন আরও ভেঙে দিয়েছে মিঠিকে। তার চোখের সামনে পুরনো সব স্মৃতি বারবার ফিরে আসছে। অথচ বাড়ির বাকিরা আবার উল্টো অভিযোগের সুর তুলেছে। অনেকেই মনে করছে মিঠির কারণেই নাকি প্লুটো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অভিযোগে আরও বিপাকে পড়েছে সে।

এমন অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কমলিনী। বাড়ির মধ্যে আলোচনা উঠেছে, যদি পুলিশ কেস হয় তাহলে নতুন করে বিপদ বাড়বে। কিন্তু কমলিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেই দায়িত্ব সে নেবে। বাকিদের এই নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে বর্ষা, চন্দ্র বা বুবলাই একের পর এক অযথা মন্তব্য করতেই থাকছে। এতদিন চুপ করে সহ্য করলেও অবশেষে মিঠির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। চিৎকার করে সে সবাইকে চুপ করিয়ে দেয় এবং জানিয়ে দেয় আর এই শহরে সে থাকবে না। মায়ের জন্য এতদিন ছিল, কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সে বিদেশ চলে যাবে।

অন্যদিকে প্লুটোর পরিবারও শোকে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে তার মা একেবারেই সামলানো যাচ্ছে না। ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবেন বলেই হাহাকার করছেন তিনি। সবাই বোঝানোর চেষ্টা করলেও কোনও ফল হচ্ছে না। প্লুটোর বাবা শুধু এটুকুই বললেন, ছেলেটা মিঠিকে এতটাই ভালোবাসত যে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেনি। মায়ের কথার বিরুদ্ধে যেতে পারেনি, তাই নিজের কষ্টে শেষমেশ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।

আরও পড়ুনঃ ক্যানসারের চতুর্থ পর্যায়ে জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী, পাশে কেবল সন্তান

সবচেয়ে কঠিন সময়ে পড়েছে মিঠি। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে। মনে করছে প্লুটোর মৃত্যুর জন্য শুধু সে-ই দায়ী। যদি একটু সাহস দিত, যদি ভুল বোঝাবুঝি না হতো তাহলে হয়তো প্লুটো বেঁচে যেত। অপরাধবোধে ভুগতে ভুগতে মিঠি একেবারে ভেঙে পড়ছে। আর এদিকে অনন্যা বারবার পুলিশ কেস করার কথা তুলছে। এখন দেখার বিষয়, মেয়েকে বাঁচাতে কমলিনী আসলে কী করেন। এখানেই তৈরি হচ্ছে গল্পের আসল মোড়।