“গত পরশুই ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম…” জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর প্রথম সিনেমার অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু যেন ভরসন্ধ্যায় বজ্রাঘাতের মতো এসে নেমেছে। বিশেষ করে যাঁরা তাঁকে খুব কাছ থেকে চিনতেন, তাঁদের মধ্যে ব্যথা আরও গভীর। জয়ের প্রথম ছবির নায়িকা দেবশ্রী রায় এই খবরে ভেঙে পড়েছেন। স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি জানালেন, “জয়ের বাড়িতে আমার নিয়মিত যাওয়া আসা ছিল। ওর মা আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। বোনের সঙ্গেও প্রায়ই কথা হতো। গত পরশুই মাসিমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তখনই বোনের কাছ থেকে জয়ের শরীর খারাপের কথা জানতে পারি। ভাবতেই পারছি না, এত দ্রুত সব শেষ হয়ে গেল।”

দেবশ্রী আরও বললেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি একের পর এক কাছের মানুষকে হারাচ্ছেন। মৃত্যু যেন চারপাশ ঘিরে ফেলছে। তাই নতুন করে প্রতিটি খবর তাঁকে ভীষণ আঘাত করছে। তিনি ফিরে গেলেন সেই পুরনো দিনে, যখন সিকিমে শুটিং করতে গিয়ে তাঁরা একসঙ্গে ঘুরতেন। শুটিংয়ের ফাঁকে দলের সবাই মিলে হাসি-আড্ডায় যে সময় কেটেছিল, আজ সবই শুধু স্মৃতি। দেবশ্রীর কথায়, “সত্যি আর ভালো লাগছে না। জয় ছিল প্রাণের মতো। খবরটা একেবারেই মানতে পারছি না।”

১৯৬৩ সালের ২৩ মে জন্মেছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছোট থেকেই তাঁর মন পড়ে ছিল অভিনয়ের জগতে। জীবনের প্রথম ছবি ছিল বিদেশ সরকারের পরিচালনায় অপরূপা। সেই ছবিতেই তাঁর বিপরীতে ছিলেন দেবশ্রী রায়। প্রথম ছবিতেই সুপুরুষ জয় নজর কেড়েছিলেন দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির সবার। এরপর নবেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের চপার ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। তবে বড় সাফল্য আসে নব্বইয়ের দশকে অঞ্জন চৌধুরীর হীরক জয়ন্তী ছবিতে।

এই ছবির পর চুমকি চৌধুরীর সঙ্গে জুটি বেঁধে জনপ্রিয়তা পান জয়। তাঁদের রসায়ন দর্শকের খুব পছন্দ হয়েছিল। এমনকি টলিপাড়ায় শোনা যেত দু’জনের প্রেমের গুঞ্জনও। নায়ক হিসেবে তিনি যেমন দর্শকদের মন জয় করেছিলেন, তেমনই ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ছিলেন সহজ-সরল ও আন্তরিক।

আজ সবই স্মৃতি হয়ে গেল। সহঅভিনেতা থেকে একেবারে পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে উঠেছিলেন জয়। তাই তাঁর চলে যাওয়া দেবশ্রীর কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতোই। টলিউডও হারাল এক প্রিয় মুখ, যাঁর উপস্থিতি হয়তো আর মেলে না, কিন্তু যাঁর স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে সহকর্মী আর ভক্তদের মনে।