ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য জায়গা করে নিয়েছে এসএস রাজামৌলির ‘বাহুবলী’। বক্স অফিসে ছবির রেকর্ড আজও চর্চায়। কিন্তু এই ছবির শিবগামী চরিত্রে প্রথমে যে নাম প্রযোজক-পরিচালকের মাথায় আসে, তা হলেন শ্রীদেবী। আর আজও প্রশ্ন ওঠে—যদি শ্রীদেবী এই চরিত্রে থাকতেন, তবে ছবির কদর কি আরও বেড়ে যেত না?
সম্প্রতি বনি কপূর নিজেই জানিয়েছেন কেন শ্রীদেবী শেষমেশ এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বনির দাবি, অর্থের প্রশ্নই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শোনা যায়, শ্রীদেবী ১০ কোটি টাকার পাশাপাশি দাবি করেছিলেন একটি হোটেলের গোটা তলা, টিমের সঙ্গে থাকা আরও দশ জনের থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের পুরো খরচ। রাজামৌলি এবং তাঁর প্রযোজকরা এতে আপত্তি তোলেন।
বনির যুক্তি আরও বিতর্কিত। তাঁর কথায়, “‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এ শ্রীদেবী এর চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছিল। তাহলে কেন ‘বাহুবলী’র মতো ছবিতে কম নেবে? আমি কেনই বা আমার স্ত্রীকে কমে ছবি করতে দেব?”
এখানেই শুরু বিতর্ক। অনেকেই মনে করেন, বনির আর্থিক শর্তই শ্রীদেবীর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগ কেড়ে নিয়েছিল। কারণ, শিবগামীর চরিত্রে রাম্যা কৃষ্ণণ আজও দর্শকের মনে অমর হয়ে আছেন। যদি সেই জায়গায় থাকতেন শ্রীদেবী, তবে হয়তো চরিত্রটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতেন।
তবে অন্য দিকও আছে। কেউ কেউ বলছেন, এত দাবি-দাওয়াই হয়তো ছিল শ্রীদেবীর প্রাপ্য। বহু বছর পর্দায় রাজত্ব করা এক অভিনেত্রী হিসেবে, নিজের মর্যাদা অনুযায়ী শর্ত রাখা দোষের কিছু নয়।
আরও পড়ুনঃ অতীত ভুলে নতুন লড়াইয়ে নামছেন বাহামনি রণিতা দাস! মা হয়ে ফিরেছেন নায়িকা?
তবু আজও প্রশ্নটা থেকে যায়—বাহুবলী কি শ্রীদেবীর হাতে আরও আইকনিক হয়ে উঠতে পারত? নাকি বনির সিদ্ধান্তই তাঁকে এক অনন্য চরিত্র থেকে বঞ্চিত করল?





