মাত্র আঠারো বছর বয়সেই জীবনের এক বড় সিদ্ধান্ত! খ্যাতি, আলো, ক্যামেরা—সব কিছু ছেড়ে দিলেন এক তরুণী অভিনেত্রী। অভিনয়ের জগতে তখন তিনি ছিলেন উঠতি তারকা, একের পর এক সাফল্যে ভরছিল তাঁর কেরিয়ার। কিন্তু হঠাৎই একদিন সব বন্ধ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানালেন—‘আমি বেছে নিয়েছি অন্য পথ।’ শুক্রবার রাতে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ফের আলোচনায় এলেন এই অভিনেত্রী। ‘কবুল হ্যায় এক্স ৩’ ক্যাপশনে দুটি ছবি পোস্ট করতেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় নেটদুনিয়ায়।
প্রথম ছবিতে দেখা যায়, নিকাহর কাগজে স্বাক্ষর করছেন তিনি। মেহেন্দি-রাঙা হাতে ঝলমল করছে হিরের আংটি। পরনে উজ্জ্বল লাল পোশাক, সোনালি সূচিকর্মে ভরপুর। মুখ কিন্তু দেখা যায়নি তাঁর। দ্বিতীয় ছবিতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকা এক নবদম্পতি—ক্যামেরার পিছন ফিরে। কে তিনি, কাকে বিয়ে করলেন—সব প্রশ্নেই কৌতূহল বাড়ছে নেটিজেনদের মধ্যে। কেউ লিখছেন, “চেনা মনে হচ্ছে,” কেউ বলছেন, “ওই চোখের চাহনিটা তো চেনা!”
তৃতীয় প্যারায় এসে কিছুটা স্পষ্ট হয় চিত্রটা। এক সময় এই অভিনেত্রীই ছিলেন ভারতীয় সিনেমার ‘চমক’—তাঁর অভিনয়, নিষ্পাপ মুখ, আত্মবিশ্বাসী সংলাপ বলার ভঙ্গি মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের প্রতিভাবান মুখগুলির একটি। কিন্তু খ্যাতি, গ্ল্যামার, পুরস্কার—সব ছাপিয়ে তিনি অনুভব করেছিলেন এক গভীর টান, যা তাঁকে টেনে নিয়েছিল এক ভিন্ন বিশ্বাসের পথে।
চতুর্থ প্যারায় অবশেষে জানা যায়, তিনি আর কেউ নন, ‘দঙ্গল’ খ্যাত জায়রা ওয়াসিম। প্রখ্যাত কুস্তিগীর গীতা ফোগাটের কিশোরীবেলার চরিত্রে অভিনয় করে ঝড় তুলেছিলেন পর্দায়। এরপর ‘সিক্রেট সুপারস্টার’-এ এক প্রতিভাবান গায়িকার ভূমিকায় তাঁর পারফরম্যান্স আজও মনে রেখেছেন দর্শকরা। শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’ ছবিতে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও ফারহান আখতারের সঙ্গে। সেই ছবির মুক্তির আগেই জায়রা ঘোষণা করেছিলেন—অভিনয়কে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি, কারণ ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে এর সংঘাত হচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘মহাভারত’-এর সেটে অল্পের জন্য অন্ধ হতে বসেছিলেন পঙ্কজ ধীর! কীভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন অভিনেতা?
পঞ্চম প্যারায় আবার ফিরে দেখা যায় সেই দৃঢ় মানসিকতার তরুণীকে, যিনি খ্যাতির মোহ ত্যাগ করে বেছে নিয়েছিলেন শান্তি ও ঈমানের পথ। ২০১৯ সালের ৩০ জুন নিজের পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমি বুঝতে পেরেছি, এই জগৎ আমাকে আমার ইমান থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।” সেই সিদ্ধান্তের পর প্রায় ছ’ বছর পেরিয়ে, আবার তিনি খবরের শিরোনামে—এইবার নববধূ হিসেবে। তবে স্বামীর নাম বা মুখ এখনো প্রকাশ করেননি জায়রা। তাঁর এই নীরব বিয়ে যেন আবার মনে করিয়ে দিল, জীবনের আলো-ছায়ার মাঝে প্রত্যেকেরই থাকে একান্ত নিজের পথ, নিজের ঈমানের সন্ধান।





