বাংলা থিয়েটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ কৌশিক সেন। অনায়াসে যা মনে করেন তাই বলেন। তাঁর সোজাসাপটা মনোভাব অনেকে পছন্দ করেন, আবার অনেকেই সমালোচনা করেন। সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি স্বার্থপর। সেই ছবির প্রসঙ্গ টেনেই শুরু হল আলাপ, কিন্তু আড্ডা চলে গেল জীবনের বাস্তবতা, সমাজ ও রাজনীতির গভীরে। আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোলামেলা মত জানালেন কৌশিক।
কৌশিক বলেন, তিনি নিজে ভাল থাকলেও সমাজের বড় অংশ আজ বিপন্ন। চারদিকে অন্যায়, অবিচার এবং ভয় কাজ করছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই শিল্প বাঁচে না মরতে বসে—এটাই তাঁর উদ্বেগ। বাংলা ছবির অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “একটা ছবিও সফল হয়নি—এটা স্বীকার করার সততা কোথাও নেই। আজ সব আলোচনা কেবল ব্যবসা আর প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে। ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলার লোক নেই।” তাঁর মতে, শুধুই টাকার জন্য ছবি বানানো বিপজ্জনক পথে নিয়ে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিকে।
মনের কাছে সত্যি থাকা কৌশিকের বরাবরের অভ্যাস। মনে করেন তাই বলবেন। ফলে তাঁর পরিসর ছোট হলেও কোনও আক্ষেপ নেই। তাঁর কথায়, “ভাবনা যত স্বাধীন হয়, পরিসর তত ছোট হয়। কিন্তু সে জন্য চুপ করে থাকব না।” রাজনীতি নিয়ে মতামত জানাতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “বাংলার মানুষ আজ অসহায়। বিজেপি সবচেয়ে বিপজ্জনক দল। তৃণমূল সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত। আর সিপিআইএম-কংগ্রেস দিশেহারা। ফলে মানুষের সামনে আসলে কোনও বিকল্প নেই।”
তাঁর দৃষ্টিতে প্রতিবাদ করার মতো শক্তিটাই আজ মানুষ হারাচ্ছে। কারণ ভয় আছে—কাজ হারানোর ভয়, আঘাত পাওয়ার ভয়। তবে তিনি আবার বিশ্বাস করেন, শিল্পই শেষ কথা বলবে। নিজের ছেলে ঋদ্ধির কথাও বললেন গর্বের সঙ্গে, “ও জানে কোথায় থামতে হয়। ওর প্রতিবাদ আসবে শিল্পের মাধ্যমে।”
আরও পড়ুনঃ ‘আমায় নিয়ে এসব মিথ্যে রটনা বন্ধ হোক’- বাবা মায়ের ডিভোর্স নিয়ে আলোচনার ঝড়! এর মাঝেই উড়ো খবরে বিরক্ত যিশু কন্যা সারা!
কৌশিক সেন তাই আজও আগের মতোই স্পষ্ট, নির্ভীক ও নির্লজ্জভাবে সত্যবাদী। কারণ তাঁর বিশ্বাস—নীরবতা সবচেয়ে বড় অপরাধ।





