খ্যাতির শিখর থেকে মানসিক ভাঙন! ব্যর্থতা সহ্য করতে না পেরে কীভাবে বদলে গেলেন রাজেশ খান্না

বলিউডের ইতিহাসে প্রথম ‘সুপারস্টার’ বলতে যে নামটি আজও উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা আর বিস্ময়ে, তিনি রাজেশ খান্না। একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি— আনন্দ, আরাধনা, কাট্টি পাট্টি— যেন একসময় তাঁকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে তুলে দিয়েছিল। সাফল্যের চূড়ায় উঠতে উঠতে তিনি যেন নিজেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, তিনিই সর্বেসর্বা। বলিউডে একটানা ১৫টি হিট ছবির রেকর্ড আজও ভাঙা কঠিন, কিন্তু সেই সাফল্যই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর পতনের সূচনা।

খ্যাতি আর প্রশংসায় ঘেরা সেই রাজেশ খান্না ধীরে ধীরে নিজের মধ্যেই বদলে যাচ্ছিলেন। শুটিং সেটে দেরি করে আসা, সহকর্মীদের প্রতি অহংকারী ব্যবহার— এসবই যেন তাঁর নতুন অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এমনকি একসময় অমিতাভ বচ্চনের মতো নবাগত অভিনেতাকেও তিনি অপমান করতে পিছপা হননি। রাজেশ মনে করতেন, তাঁর রাজত্বে আর কেউ মাথা তুলতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের চাকা যখন উল্টে ঘোরে, তখন মহানায়কও তার আঘাতে কেঁপে ওঠেন।

একটির পর একটি ছবি ব্যর্থ হতে শুরু করলে রাজেশ খান্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন। নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ব্যর্থতার ধাক্কা তিনি কখনও নিতে পারেননি। ক্রমে মদ্যপান তাঁর জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। দিনরাত অবসাদে ডুবে থাকতেন, চুপচাপ একা বসে নিজের অতীতের সাফল্যের দিনগুলোর কথা ভাবতেন।

তাঁর স্ত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া তখন দেখেছিলেন এক অন্য রাজেশকে— ক্লান্ত, হতাশ, মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত একজন মানুষ। ঘুমের মধ্যে রাজেশ বারবার চিৎকার করে উঠতেন, “এ হতে পারে না!” কখনও আবার ভগবানের কাছে আর্তি জানাতেন— “আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না।” ডিম্পল অনেক সময় ভয় পেতেন, মনে হতো, হয়তো রাজেশ খান্না মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছেন।

পরে রাজেশ খান্না নিজেই এক সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করেছিলেন, “সাফল্য আমাকে এমনভাবে ঘিরে ধরেছিল যে, ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার শক্তি আমার ছিল না।” বলিউডের প্রথম সুপারস্টারের এই স্বীকারোক্তি যেন আজও শেখায়— খ্যাতি যত উঁচুতেই উঠুক, বাস্তবের মাটি হারিয়ে ফেললে তার মূল্য দিতে হয় জীবন দিয়েই।