বলিউডের দুনিয়ায় সাফল্যের পথ কখনওই সহজ নয়। আলোর ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অক্লান্ত পরিশ্রম আর অগণিত ত্যাগের গল্প। অমিতাভ বচ্চনের জীবনে এমনই এক অধ্যায় ছিল, যখন তিনি কাজের চাপে পরিবারকে সময় দিতে পারতেন না। ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত ব্যস্ততার কারণে দিনের পর দিন পরিবারের থেকে দূরে কাটাতে হত তাঁকে। তখন তো আর আজকের মতো মোবাইল ফোন ছিল না যে, যেকোনও সময়ে বাড়ির খোঁজখবর নেওয়া যাবে।
এই কঠিন সময়েই এগিয়ে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী জয়া বচ্চন। স্বামীর একাকিত্ব বুঝে তিনি তৈরি করলেন এক অভিনব উপায়। প্রতিদিন অমিতাভের লাঞ্চ বক্সে জয়া রেখে দিতেন ছোট ছোট চিঠি। কখনো লেখা থাকত – “তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসো”, কখনো “অভিষেকের শরীর ভালো নেই”। আবার কখনো মনে করিয়ে দিতেন স্কুলের অনুষ্ঠান, কিংবা কোনও ছোটখাটো পারিবারিক খবর। এসব খুদে বার্তা হয়ে উঠত দিনভর অমিতাভের শক্তির উৎস, মনোবল বাড়াত, এবং ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে অনুভব করতে সাহায্য করত।
জয়ার এই ছোট্ট উদ্যোগই ধীরে ধীরে গড়ে তোলে তাঁদের সম্পর্কে এক গভীর বন্ধন। অমিতাভ পরে বহুবার জানিয়েছেন, সেই চিঠিগুলি তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। কাজের ফাঁকে যখনই টিফিন খুলে চিঠি পেতেন, মনে হত তিনি একা নন, পরিবার সবসময় তাঁর সঙ্গে আছে।
অমিতাভ এবং জয়ার প্রেমকাহিনী বলিউডে আজও এক কিংবদন্তি। তাঁদের সম্পর্ক কখনোই বিতর্কহীন ছিল না। একসময় অমিতাভের নাম জড়িয়েছিল রেখার সঙ্গেও, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন জয়া বচ্চনকেই। এই টিফিনবাক্সের গল্পই প্রমাণ করে, ভালোবাসার শক্তি কতটা নিঃশব্দে, কিন্তু সযত্নে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সমালোচনার মধ্যেও দৃঢ় অনন্যা গুহ, কম বয়সে বিয়ে নিয়ে স্পষ্ট জবাব অভিনেত্রীর
আজও ফিল্মি দুনিয়ায় এই সুখী দম্পতির গল্প অনুপ্রেরণা দেয়। ব্যস্ততার আড়ালেও যে ভালোবাসা বেঁচে থাকে, সেটাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয় জয়া বচ্চনের সেই ছোট্ট ছোট্ট চিঠিগুলি।





