মিঠির জীবনে ভয়ংকর মোড়! সমাজের রো’ষ থেকে মেয়েকে বাঁচাতে কি করবে কমলিনী? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক চিরসখা প্রতিদিনই নতুন মোড়ে দর্শকদের টানটান উত্তেজনায় রাখছে। সাম্প্রতিক পর্বে দেখা গেছে, মিঠির শারীরিক কিছু পরিবর্তন নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েন মা কমলিনী এবং পিসিমণি। মেয়ের কথা ও আচরণে অস্বাভাবিকতা বুঝে অভিজ্ঞ মা হিসেবে কমলিনী দ্রুত আন্দাজ করেন বিষয়টি সাধারণ নয়। আড়ালে মেয়েকে প্রশ্ন করতেই সামনে আসে এমন এক সত্য, যা শুনে কার্যত ভেঙে পড়েন তিনি। মিঠির গর্ভে যে একটি নতুন প্রাণ বেড়ে উঠছে, তা বুঝতে পেরে কমলিনীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।

মিঠির ভবিষ্যৎ এবং সমাজের ভয়ঙ্কর চোখরাঙানির কথা ভেবে পরিবার দ্রুত এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। আপাতত এই সত্য জানানো হবে না মিঠির প্রেমিক এবং হবু স্বামী কৃশানুকে। কমলিনী, স্বতন্ত্র এবং পিসিমণি মিলে গোপনে পরিকল্পনা করেন, কীভাবে এই সন্তানকে নিজেদের পরিচয়ে আগলে রেখে মিঠিকে কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। তাঁদের বিশ্বাস, সমাজের সামনে সত্য প্রকাশ পেলেই মিঠির জীবন চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয় কৃশানুকে ঘিরে। মিঠির জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাকে এই সত্যের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবারের আশঙ্কা, কৃশানু এই সন্তানকে মেনে নিতে পারবে না এবং তার মনে সন্দেহ জন্মাতে পারে। তাই মিঠিকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেওয়া হয়, যেন এই গোপন কথা চারজনের বাইরে কাউকে জানানো না হয়। মিঠির চোখের জল আর অপরাধবোধ দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়।

এর মধ্যেই নতুন বিপদ নেমে আসে সমাজের তরফ থেকে। শুভ উপলক্ষে বাড়িতে ব্রাহ্মণভোজনের আয়োজন করা হলেও কেউই আসতে রাজি হন না। পরে এক ব্রাহ্মণের মুখে জানা যায়, মিঠির ঘটনার কারণে গোটা পরিবারকে সমাজ বয়কট করেছে। তাদের বাড়িকে অপবিত্র বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অপমান কমলিনীর পরিবারকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয় এবং সমাজের নিষ্ঠুর মুখ আবারও সামনে আসে।

এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠে কৃশানু। আধুনিক ও শিক্ষিত যুবক হিসেবে সে প্রশ্ন তোলে, যেখানে মিঠির কোনো দোষ নেই সেখানে কেন এমন সামাজিক শাস্তি। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী পর্বে মিঠির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছেন দর্শকরা।