ইউটিউব দুনিয়ায় ‘সিনেবাপ’ (Cinebap) নামে পরিচিত মৃন্ময় দাস (Mrinmoy Das) বর্তমান বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। মূলত রোস্টিং এবং সামাজিক বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে ভিডিও বানিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তিনি শুধু মজা করার জন্য রোস্ট করেন না, বরং তার ভিডিওতে সমসাময়িক বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অদ্ভুত কর্মকাণ্ড এবং সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার বা ভুল ধারণার বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কথা বলেন।
মৃন্ময় কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজের মতামত প্রকাশ করেন। অনেক সময় বড় বড় সেলিব্রিটি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভুল ধরিয়ে দিতেও তিনি পিছপা হন না। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মৃন্ময় দাসকে নিয়ে বিতর্কও কম নেই। তার ব্যবহারের ভাষা বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার অভিযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যেই নেটপাড়ায় বিতর্ক দানা বাঁধে। তবে তার ভক্তদের মতে, তিনি যা বলেন তা বাস্তবের নিরিখে এবং সাহসিকতার সাথেই বলেন।
মৃন্ময় এবার ডিজিটাল স্ক্রিন ছাড়িয়ে বড় পর্দায় নিজের ছাপ ফেলতে তৈরি। দীর্ঘদিনের ইউটিউব ক্যারিয়ার এবং অভিনয়ের প্রতি প্যাশন থেকে তিনি অবশেষে কমার্শিয়াল ছবিতে ডেবিউ করতে যাচ্ছেন। মৃন্ময় দাসের প্রথম কমার্শিয়াল ছবির নাম ‘খাঁচা’। ছবিটির ট্রেলার ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে এবং এটি আগামী ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। ছবিটি মূলত একটি অ্যাকশন-থ্রিলার এবং সামাজিক বার্তা সংবলিত। ছবিতে মৃন্ময়কে ‘কমলেশ’ নামক কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন রজতাভ দত্ত, মীর আফসার আলী, কাঞ্চনা মৈত্র এবং নবাগতা প্রত্যুষা।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির রাজনৈতিক প্রভাব এবং লবি সম্পর্কে তো আমরা সকলেই জানি। মৃন্ময়ও তার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, টলিউড এখন নির্দিষ্ট কিছু ‘লবি’ বা গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কাজ পেতে হলে বা ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে কোনো না কোনো প্রভাবশালী লবির অংশ হতে হয়। যারা এই লবির বাইরে থাকে, তাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ পেতে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়। একজন ইউটিউবার যখন মূলধারার সিনেমায় আসতে চান, তখন ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে অনেক বাধা পেরোতে হয়।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি দৌড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে! জি জলসার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলো কোন ধারাবাহিক? প্রথম পাঁচ দখল করতে পারলো পরিণীতা? দেখে নিন এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা!
মৃন্ময় যখন মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার ৯-এর প্রতিযোগী ছিলেন, তখনই তিনি তার অভিনয়ের প্রতিভা দেখিয়েছিলেন। সেই সময় বিচারকের আসনে থাকা রজতাভ দত্ত মৃন্ময়ের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হতেন। পরবর্তীতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যেখানে রজতাভ দত্তর সাথে তার স্ক্রিন শেয়ার করার কথা ছিল। কিন্তু সঠিক সময় ও সুযোগের অভাবে সেই কাজটা আর হয়ে ওঠেনি। তাই তিনি দমে না গিয়ে ইউটিউবকে নিজের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নেন। দীর্ঘ ১০ বছরের পরিশ্রম দিয়ে তিনি ‘সিনেবাপ’ ব্র্যান্ডটি তৈরি করেন। তার মতে, ইউটিউব তাকে যে পরিচিতি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা দিয়েছে, সেটাই তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে যে তিনি নিজেই নিজের ছবির অনেকটা দায়িত্ব নিতে পারেন।





