‘একসাথে আছি প্রমাণ করতে বারবার ছবি লাগে না’—কাদের বিঁধলেন সম্রাট মুখার্জি? ২৩ বছরের দাম্পত্যের রহস্য ফাঁস!

টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় দুই মুখ সম্রাট মুখার্জি (Samrat Mukherjee) ও ময়না মুখার্জি (Moyna Mukherjee) গত দুই দশকে বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় নিজেদের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি এই তারকা দম্পতি গত ২৩ বছর ধরে এক অনন্য দাম্পত্য জীবনের উদাহরণ তৈরি করেছেন। টলিপাড়ার অনিশ্চিত সম্পর্কের ভিড়ে তাঁদের এই দীর্ঘ সফর এবং দুই সন্তানকে নিয়ে সাজানো সংসার তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।

বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় সম্রাট এবং ময়না দুজনেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। সম্রাট যেখানে ‘বউ কথা কও’ থেকে ‘আকাশ কুসুম’—প্রতিটি ধারাবাহিকে তাঁর বলিষ্ঠ অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন, সেখানে ময়না মুখার্জির ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’-র সেই আইকনিক ‘পাম্মি’ চরিত্র আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গত ২৩ বছর ধরে টলিপাড়ার সমস্ত গুঞ্জন আর ট্রোলিংকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁরা যেভাবে সংসার আগলে রেখেছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় শিক্ষা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সম্রাট স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের গোপন চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বর্তমানের ‘সোশ্যাল মিডিয়া শো-অফ’ থেকে দূরে থাকা। তাঁদের মতে, ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তবে তা বারবার ছবি দিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। টলিউডে যখন প্রায়ই বিচ্ছেদের খবর শোনা যায়, সেখানে সম্রাট ও ময়না ২৩ বছর ধরে একসঙ্গে আছেন। তাঁরা বুঝিয়েছেন যে, দাম্পত্য মানে শুধু হাসিমুখে ছবি তোলা নয়, বরং ফোনের স্ক্রিনের বাইরেও একে অপরের পাশে থাকা। সম্রাট রসিকতা করে বলেন যে, তারা অনেকদিন পর পর একসাথে বেরোন, কারণ তাঁদের আলাদা করে কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাগিদ নেই।

আজকাল ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই দেখা যায় তারকা দম্পতিদের রোমান্টিক ছবি আর ভিডিওর ছড়াছড়ি। কিন্তু এই ‘শো-অফ’ সংস্কৃতিতে একেবারেই বিশ্বাসী নন সম্রাট। সাক্ষাৎকারে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়াতে এই আমাদের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি হলো, এই পার্টি থ্রো করেছি, এই আমরা এত বছর পূর্ণ করলাম… আর ক্ষণে ক্ষণে দুজনের ছবি দিয়ে প্রমাণ করা যে আমরা কিন্তু একসাথে আছি, চিন্তা নেই—এই ব্যাপারটা আসলে প্রমাণ করার কোনো দরকারই পড়ে না।” সম্রাটের মতে, যারা সত্যিই সুখে থাকে, তাদের বারবার দুনিয়াকে চিৎকার করে তা জানানোর প্রয়োজন হয় না। ভালোবাসা যদি মনে থাকে, তবে তা মোবাইলের গ্যালারিতে বন্দি করে রাখার চেয়ে বাস্তবে উপভোগ করাই বেশি জরুরি।

এই জুটিকে নিয়েও অনেক বিতর্ক বা ট্রোল হয়েছে। সম্রাট এবং ময়না বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা সেইসব বিতর্ককে পাত্তা না দিয়ে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। কেবল সোশ্যাল মিডিয়া সমালোচনা নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও সম্রাট-ময়না মাটির কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসেন। ঘুরতে যাওয়া থেকে শুরু করে উৎসব পালন সর্বত্রই পরিবার তাঁদের প্রথম ভালোবাসা।