রাজপাল যাদব ‘চেক বাউন্স’ মামলায় স্বস্তি! অন্তর্বর্তী জামিনে সাময়িক মুক্তি! জামিন পেতেই কি বললেন অভিনেতা?

বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতার জীবনে সাম্প্রতিক সময়ে আইনি জটিলতা বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। তবে আপাতত মিলেছে খানিকটা স্বস্তি। সোমবার মামলার শুনানিতে দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগকারী পক্ষের নামে দেড় কোটি টাকার ডিমান্ড ড্রাফ্ট জমা দিতে হবে। আদালতের এই শর্ত পূরণ করতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন অভিনেতা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ জমা দেওয়া হলে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করা হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তিনি এবং তাঁর পরিবারও কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছে।

এই অন্তর্বর্তী জামিনের পেছনে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক কারণ। পরিবারের বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর আবার মামলার শুনানি হবে, যদিও সেই নির্দিষ্ট দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। আদালত আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না হলে মামলাটি ফের তালিকাভুক্ত করা হবে। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই দ্রুত ব্যবস্থা নেন তিনি এবং শর্ত পূরণ করে সাময়িক স্বস্তি পান।

মামলার সূত্রপাত বহুদিন আগের আর্থিক লেনদেন থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী একাধিক চেকে সই করেছিলেন অভিনেতা, যার প্রত্যেকটির অঙ্ক ছিল দেড় কোটি টাকা। সেই চেকগুলি বাউন্স হওয়ার পর আইনি জটিলতা বাড়তে থাকে। অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী অবনিত সিংহ সিক্কার দাবি করেন, আদালত প্রতিটি মামলায় তিন মাস করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল এবং প্রতিটি চেকের জন্য আলাদা করে জরিমানাও ধার্য করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে নির্ধারিত অর্থ দীর্ঘদিন পরিশোধ করা হয়নি। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিনেতার বক্তব্য অবশ্য কিছুটা আলাদা সুরে শোনা যায়। তিনি জানিয়েছেন, তিন দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁর বড় শক্তি। সেই ভালোবাসার জোরেই তিনি অসংখ্য ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। অতীতের ঘটনা নিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে আদালতের ডাকে নিয়মিত হাজিরা দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। ভবিষ্যতেও আইন মেনে চলার বিষয়ে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আদালতের শর্ত পূরণ করে সাময়িক মুক্তি মিললেও পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে সবার। একদিকে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে চলমান আইনি চাপ এই দুইয়ের মাঝেই সময় কাটছে তাঁর। ভক্তদের কাছে তিনি এখনও প্রিয় অভিনেতা, তবে মামলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয় তা নিয়ে কৌতূহল কম নয়। এখন দেখার, আসন্ন শুনানিতে এই দীর্ঘ আইনি পর্বের পরবর্তী অধ্যায় কীভাবে এগোয়।