টলিউডে দ্বন্দ্ব থেকে বন্ধুত্ব! রাণা সরকার ও পিয়া সেনগুপ্তর বৈঠকের পর মিলল নতুন বার্তা!

টলিউডে কিছুদিন আগেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল প্রযোজক রাণা সরকার এবং ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর মধ্যে সংঘাত। একাধিক অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তবে শনিবার ২৮ মার্চ একটি বৈঠকে ফের মুখোমুখি হন দুজনেই। বৈঠক শেষে বাইরে এসে তাঁরা যে বার্তা দিলেন, তা অনেকটাই ইতিবাচক। রাণা সরকার স্পষ্ট করে জানান, মতভেদ থাকলেও সম্পর্কের জায়গা থেকে দূরত্ব তৈরি করা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে এমন মতবিরোধ হতেই পারে। সিনেমা মুক্তির সময় শো নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, সবাই মানুষ, তাই কখনও কখনও আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া হয়ে যায়। পাশে দাঁড়িয়ে পিয়া সেনগুপ্তও সেই অবস্থানকেই সমর্থন করেন। ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই বন্ধুত্বের বার্তা টলিউডে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

তবে এই ইতিবাচক বার্তার ঠিক আগেই ঘটে গিয়েছে একটি বিতর্কিত ঘটনা। রাণা সরকারের প্রযোজনায় তৈরি মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিক ‘গুন গুন করে মহুয়া’র শুটিং সেটে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, কয়েকজন লাইট কেয়ারটেকার সেটে ঢুকে ভাঙচুর চালান। তাঁদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই ঘটনার পর ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি পুরো ঘটনার নিন্দা করে তদন্তের আশ্বাস দেন। ফলে একদিকে শুটিং সেটের অশান্তি, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর অন্তত সম্পর্কের জায়গায় কিছুটা মেরামতির ইঙ্গিত মিলেছে।

উল্লেখ্য, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল স্ক্রিনিং কমিটির একটি বৈঠক ঘিরে। সেখানে রাণা সরকারের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন দুই পক্ষ। যদিও মাসের শেষে এসে বন্ধুত্বের বার্তা অনেকটাই পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন দেখার, বাংলা ছবির ক্যালেন্ডার এবং মুক্তি সংক্রান্ত যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান কতটা দ্রুত হয়।