‘তুই কি চাস? তুই আমাকে ভালোই বাসিসনা!’ সাক্ষাৎকারে বিয়াসের ওপর ফেটে পড়লেন কনে দেখা আলোর ‘বনলতা’ ওরফে নন্দিনী দত্ত!

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক কনে দেখা আলোর লড়াই পর্দা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেল বাস্তবের ইন্টারভিউ টেবিলে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত (Nandini Dutta) এবং বিয়াস ধর (Beas Dhor)। সেখানে তাঁদের কথোপকথন দেখে নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন উঠছে তবে কি সত্যিই পর্দার তিক্ততা এবার বাস্তবেও প্রভাব ফেলছে?

ধারাবাহিকের কাহিনী অনুযায়ী, নিজের ভালোবাসা অনুভবকে পেতে গয়না চুরি করে লাজুর ওপর দোষ চাপিয়েছেন বনলতা। এই প্রসঙ্গ তুলতেই সাক্ষাৎকারে মেজাজ হারান নন্দিনী। তিনি স্পষ্ট জানান, বাস্তব জীবনে তিনি মোটেই ‘সাদা মনের মানুষ হওয়ার ভান করেন না। তাঁর দাবি, “অনুভবের নিজের স্ত্রী থাকতে অন্য কাউকে ভালোবাসা যদি ভুল না হয়, তবে বনলতার চুরি কেন বড় অপরাধ? এভরিবডি ইজ গ্রে!”। নন্দিনীর এই মন্তব্যে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান বিয়াস।

ইন্টারভিউ চলাকালীন বিয়াসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন নন্দিনী। পর্দার ননদ-বৌদির সম্পর্কের বাইরেও নন্দিনী অভিযোগ করেন যে, বিয়াস তাঁকে ভয় পায় এবং এড়িয়ে চলে। নন্দিনী রাগে ফেটে পড়ে বলেন, “আমাকে দেখলে ও ভয় পায়, অন্যদিকে চলে যায়। আমি রেগে বম ব্লাস্ট করি কারণ ও আমাকে সরাসরি কনফ্রন্ট করতে পারে না”। এমনকি বিয়াসকে সরাসরি চার্জ করে তিনি বলেন, “তুই আমাকে ভালোইবাসিস না! তুই কী করে এটা করতে পারলি?”।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নন্দিনী বিয়াসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওর হিউমার বোঝার বয়স এখনও হয়নি”। যদিও নন্দিনী বিষয়টিকে ‘খুনসুটি’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু দর্শকদের নজর এড়ায়নি তাঁদের মধ্যকার সূক্ষ্ম তপ্ত বাক্যবিনিময়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বনলতার চরিত্র নিয়ে দর্শকদের ট্রোলিং প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন নন্দিনী। তিনি সাফ জানান যে তিনি মোটেই ‘মোটা চামড়ার মেয়ে’ নন। পার্সোনাল অ্যাটাক হলে তাঁরও লাগে। অন্যদিকে বিয়াসকে যখন স্পোর্টস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন নন্দিনী সেখানেও টিপ্পনি কাটতে ছাড়েননি যে স্পোর্টস ডে-তে বিয়াস নাকি পড়ে যাওয়ার ভয়ে কাঁপতেন।

গোটা সাক্ষাৎকার জুড়ে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেছে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে। কেউ বলছেন এটা স্রেফ মজা, আবার কারও মতে বনলতার চরিত্রের ছায়া নন্দিনীর বাস্তব ব্যক্তিত্বেও পড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বনলতা আর লাজুর এই ‘অফ-স্ক্রিন’ লড়াই ধারাবাহিকের টিআরপিতে কতটা অক্সিজেন দেয়, সেটাই এখন দেখার।