বর্তমান সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের (Tollywood) অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। মঞ্চ থেকে পর্দা সর্বত্রই তাঁর অভিনয়ের পারদর্শিতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পেশাদার সাংবাদিকতা বা বিনোদন জগতের ভাষায় অনির্বাণ কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং এক বিশাল ব্র্যান্ড। তবে গত কয়েক মাস ধরে টলিউডের এই প্রথম সারির অভিনেতাকে খুব একটা নতুন প্রজেক্টে দেখা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সুপারস্টার দেবের পরিচালনায় তাঁর পরবর্তী ছবি দেসু ৭-এ অনির্বাণের অভিনয়ের ঘোষণা আসতেই টলিউডের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে ছিল ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা। ফেডারেশন অফ সিনেমা টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-এর সাথে কিছু মতাদর্শগত বিরোধ এবং ‘কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’-তে দায়ের করা মামলার কারণে তিনি একপ্রকার ‘অঘোষিত বয়কটের’ মুখে পড়েছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির ভাষায় একে ‘নন-কোঅপারেশন’ বলা হয়, যার ফলে অনেক পরিচালকই তাঁকে নিয়ে কাজ করতে চাইলেও আইনি বা সাংগঠনিক বাধার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ জানিয়েছেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে আসা সমঝোতার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তিনি সেই মামলা প্রত্যাহারের চিঠিতে সই করেছেন, যা তাঁর কাজে ফেরার পথ প্রশস্ত করেছে।
ভিডিওতে অনির্বাণ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাঁর আগামী কাজ এবং ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দেব ও শুভশ্রী জুটির প্রতি দর্শকদের যে প্রবল উন্মাদনা রয়েছে, সেই প্রজেক্টের অংশ হওয়া তাঁর কাছে বড় পাওনা। বিশেষ করে দেবের প্রথম পরিচালনা এবং শুভশ্রীর সাথে প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করা নিয়ে তিনি বেশ উত্তেজিত। তিনি বিশ্বাস করেন, পুরো ক্রিয়েটিভ টিম তাঁর জন্য একটি চমৎকার চরিত্রের সুযোগ তৈরি করেছে। ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট নিয়ম বা এসওপি (SOP) তৈরির জন্য সংগঠনগুলো কাজ করছে এবং তিনি সেই ইতিবাচক পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।
অভিনয় জীবনের বাইরেও অনির্বাণ একজন সমাজসচেতন শিল্পী। ভিডিওতে তাঁর নতুন গান ‘ভালোবাসার দেশ’ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা যুদ্ধ এবং ‘আদারাইজেশন’ বা অন্যকে পর করে দেওয়ার রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। গাজা বা ইউক্রেন পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি জানান, মানুষের এই হাহাকার তাঁকে ব্যথিত করে। ভ্রমণের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা জানিয়ে তিনি রাজস্থান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের সৌন্দর্যের প্রশংসা করলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার মাটি, ভাষা এবং সংস্কৃতিই তাঁর একমাত্র চালিকাশক্তি এবং স্থায়ী ঠিকানা।
আরও পড়ুনঃ বরানগরের রাস্তায় সায়ন্তিকার ‘ম্যারাথন’ প্রচার! ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু রাজনৈতিক তরজা, সায়ন্তিকার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে মিমের বন্যা সোশ্যাল মিডিয়ায়!
পরিশেষে বলা যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন অভিনেতার কাজে ফেরা নয়, বরং টলিউডের অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা কাটার একটি ইঙ্গিত। ‘দেসু ৭’ ছবির মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে, সৃজনশীলতা কোনো বাধার কাছে চিরকাল হার মানে না। ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণদের হস্তক্ষেপে এবং অনির্বাণের নমনীয়তায় দীর্ঘদিনের সেই ‘ব্যান কালচার’ বা নিষেধাজ্ঞার মেঘ কেটে গিয়ে এখন কেবল ভালো কাজ উপহার দেওয়ার অপেক্ষা। দর্শকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁদের প্রিয় অভিনেতাকে আবারও বড় পর্দায় স্বমহিমায় দেখার জন্য।





