টলিউডের (Tollywood) অন্যতম সাহসী এবং স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী হিসেবে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের (Swastika Mukherjee) নাম সবার আগে আসে। পর্দায় যেমন তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন, পর্দার বাইরেও সমাজ এবং নারী অধিকার নিয়ে কথা বলতে তিনি কখনও পিছপা হন না। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের শর্তে জীবন কাটানো এবং সামাজিক ট্যাবু ভেঙে ফেলার জন্য তিনি প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে থাকেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় প্রথাগত ধ্যান-ধারণার মূলে কুঠারাঘাত করে নিজের বলিষ্ঠ সত্তার পরিচয় দিয়েছেন।
ভিডিওটিতে স্বস্তিকা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে নারীদের যৌন ইচ্ছা বা শারীরিক চাহিদা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি আক্ষেপের সাথে জানান, আমাদের সমাজ আজও মনে করে নারীদের যৌন ইচ্ছা থাকা বা তা নিয়ে আলোচনা করা একটি অপরাধ। বিয়ের বহু বছর পর অনেক দম্পতিই কেবল ‘ভাই-বোন’-এর মতো সম্পর্কে আটকে থাকেন, সেখানে নারীর শারীরিক আকাঙ্ক্ষার কোনো জায়গা থাকে না। স্বস্তিকার মতে, কোনো নারী যদি নিজের পছন্দের কথা বা চাহিদার কথা প্রকাশ করেন, তবে সমাজ তাকে তৎক্ষণাৎ ‘খারাপ মেয়ে’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
নারীর শরীর এবং ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্বস্তিকা ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরখা’-র মতো চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত বা তথাকথিত ‘ভদ্র’ পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হিসেবে দেখা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঙ্গীরাও এটা বুঝতে চান না যে সম্পর্কে দুজনেরই সমান তৃপ্তি এবং অংশগ্রহণ থাকা জরুরি। এই নীরবতা ভাঙার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন এবং এই ট্যাবু কাটিয়ে উঠতে সরাসরি আলোচনার ওপর জোর দেন।
সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল স্বস্তিকার মেয়ে অন্বেষাকে নিয়ে হওয়া বডিশেমিং বা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষের প্রসঙ্গ। স্বস্তিকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, তাঁর মেয়ে গ্ল্যামার জগতের সাথে যুক্ত নয় এবং সে প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই ভালোবাসে। তবুও সম্প্রতি একটি প্রিমিয়ারে তাঁর সাথে যাওয়ার পর নেটিজেনরা অন্বেষার ওজন বা চেহারা নিয়ে কুমন্তব্য শুরু করেছেন। একজন মা হিসেবে স্বস্তিকা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর মেয়ে নিজের যোগ্যতায় জীবন গড়ছে এবং তাঁর চেহারা নিয়ে চর্চা করার অধিকার বাইরের কারো নেই।
পরিশেষে, বর্তমান সময়ের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বস্তিকা বলেন যে, ২০২৬ সালেও মানুষ আশা করে একজন অভিনেত্রীর মেয়েকে সব সময় হিরোইনের মতোই দেখতে হতে হবে। এই সংকীর্ণ মানসিকতা এবং বডিশেমিং সমাজের গভীরে শিকড় গেড়ে আছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের। তিনি মনে করেন, মানুষের রূপ বা চেহারা নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা উচিত। স্বস্তিকার এই স্পষ্ট বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং অনেক অনুরাগীই তাঁর এই সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন।





