টলিউডের (Tollywood) অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘গুপ্তধন’ সিরিজের হাত ধরে দীর্ঘ চার বছর পর রূপোলি পর্দায় ফিরছেন বাঙালির প্রিয় সোনাদা অর্থাৎ আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee)। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায় এবং পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ বিরতির রহস্য থেকে শুরু করে সুন্দরবনের রুদ্ধশ্বাস শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের রাজনীতি ও স্বচ্ছতা একাধিক বিস্ফোরক ও আকর্ষণীয় বিষয়ে মুখ খুললেন এই তারকা জুটি। নতুন ছবি মুক্তির প্রাক্কালে তাদের এই খোলামেলা আড্ডা ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
২০২২ সালের পর সোনাদাকে পর্দায় দেখার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ চার বছর। এই বিরতির কারণ খোলসা করে পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সোনাদার কোনো গল্পই প্রচলিত কোনো সাহিত্য থেকে ধার করা নয়। এটি সম্পূর্ণ তার মস্তিষ্কপ্রসূত এবং একটি মৌলিক চরিত্র। ধ্রুবর কথায়, “একটি ছবি সফল হওয়ার পর তড়িঘড়ি আরেকটি ছবি বানিয়ে ফেলার ব্যবসায়িক লোভ আমাদের নেই। সোনাদার গল্পের পেছনে প্রচুর গবেষণা ও যত্নের প্রয়োজন হয়, যা সময়সাপেক্ষ।” অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ও পরিচালকের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, তাড়াহুড়ো করে ছবির মান নষ্ট করার চেয়ে দর্শকদের একটু সময় নিয়ে ভালো কিছু উপহার দেওয়া অনেক বেশি শ্রেয়।
এবার সোনাদা, আবিরলাল আর ঝিনুকের নতুন ডেস্টিনেশন রহস্য রোমাঞ্চে ঘেরা সুন্দরবন। তবে এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা সহজ ছিল না। একদিকে যেমন ছিল জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনই ছিল বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার কড়া দায়বদ্ধতা। সাম্প্রতিক সময়ে শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে এই ছবিতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পরিচালক ও অভিনেতা দুজনেই একবাক্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “সিনেমার চেয়ে মানুষের জীবনের দাম অনেক বেশি।” কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে, পরিবেশের ক্ষতি না করে অত্যন্ত পেশাদার গাইডদের তত্ত্বাবধানে এবং মেথডিক্যাল উপায়ে সুন্দরবনের বুকে এই রোমাঞ্চকর শুট সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চর্চিত অংশটি ছিল ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাজনীতি নিয়ে তারকাদের অকপট বক্তব্য। রাজ্যে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবির চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি দাবি তোলেন, “টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এবার আরও বেশি বিনিয়োগ এবং স্বচ্ছতা আসা দরকার।” আবির স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা অন্য কোনো প্রভাব নয়, একজন টেকনিশিয়ান বা অভিনেতার কাজ পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত তার নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা।
আরও পড়ুনঃ অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে জোজো! দীর্ঘদিনের ব্যথায় অবশেষে চিকিৎসার পথে গায়িকা!
ব্যোমকেশ বা ফেলুদার মতো সাহিত্যের চেনা গণ্ডি পেরিয়েও সোনাদা যেভাবে আট থেকে আশি সব বয়সের বাঙালির মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে, তা এক অবিশ্বাস্য সাফল্য। আবির চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল রত্ন হলো এর নিখাদ ‘বাঙালি আনা’, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বিগত আট বছরে ছোটরা যারা সোনাদাকে ভালোবেসেছিল, তারা আজ কলেজে পড়ে, অথচ চরিত্রটির প্রতি তাদের উত্তেজনা আজও একই রকম। পর্দায় সোনাদা, আবিরলাল আর ঝিনুকের অফস্ক্রিন বন্ডিং এবং অনস্ক্রিন রসায়নই এই ছবির আসল ম্যাজিক, যা দর্শকদের আবারো এক রোমাঞ্চকর ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চলেছে।





