বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিনেমার ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে কালো টাকার প্রভাব এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ফলতার বিডিও শানু বক্সী এবং জাহাঙ্গির খানের কথোপকথন প্রকাশ্যে আসার পর সেই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। এই ঘটনার পর ফের টলিউডের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিনেতা ও বিধায়ক হিরণ মুখ খুলে দাবি করেছেন, বাংলা চলচ্চিত্রে কালো টাকার প্রবেশ নতুন কিছু নয়, বরং বহু বছর ধরেই এই প্রবণতা চলে আসছে।
এক সাক্ষাৎকারে হিরণ বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রে কালো টাকার প্রবেশ আরও স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাঁর দাবি, সেই সময়ের এক প্রভাবশালী প্রযোজক এই ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যদিও সেই মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি, তবে গোটা ঘটনাকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বলেই উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা শিল্পের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আরও পড়ুন: ফুল পিসি ও এডওয়ার্ডে বাজিমাত! দ্বিতীয় দিনেই বক্স অফিসে বড় চমক শ্যামৌপ্তির প্রথম ছবির!
শুধু প্রযোজক নয়, রাজনীতি এবং বিনোদন জগতের সম্পর্ক নিয়েও সরব হয়েছেন হিরণ। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু তারকা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেই বিষয়গুলো পরে চাপা পড়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এই সমস্ত প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর প্রয়োজন। অন্যদিকে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে যাঁদের নাম ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি।
হিরণের মতে, এই পরিস্থিতির ফলে টলিউডের প্রতি দর্শকদের সম্মান অনেকটাই কমেছে। তিনি বলেন, শিল্পী বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট অবস্থান থাকা জরুরি। তাঁর দাবি, বহু মানুষ রাজনীতির সুবিধা নিয়েছেন, কিন্তু জনস্বার্থের প্রশ্নে সরব হননি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে সিনেমা শিল্পের ভেতরে এমন কিছু গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থে শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়া থেকে শুরু করে বাংলা ছবির সামগ্রিক বাজারের ওপরও।
ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে হিরণ আশাবাদী সুরে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রশাসনের অধীনে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে বলে জানান তিনি। যদিও এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি হিরণ, তবে তাঁর দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলাবে এবং বাংলা চলচ্চিত্র জগত নতুন পথে এগোতে পারবে।





