ভাইফোঁটার ছবি ঘিরে ট্রোলিং! ‘সৌজন্য আর রাজনীতি এক নয়’ বি’স্ফোরক অপরাজিতা আঢ্য!

সাম্প্রতিক সময়ে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পুরনো ভাইফোঁটার ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ফেডারেশনের প্রাক্তন কর্তা স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্কের আবহে সেই পুরনো ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই একাংশের নেটিজেন অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে নানা কটাক্ষ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অপরাজিতা।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, কোনও অনুষ্ঠানে সৌজন্যবশত উপস্থিত থাকা মানেই কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক হয়ে যাওয়া নয়। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে ভদ্রতা ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা পেয়েছেন। তাই কেউ আমন্ত্রণ জানালে সেখানে উপস্থিত হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক সামাজিক আচরণ বলেই মনে করেন। তাঁর মতে, সৌজন্যবোধকে রাজনৈতিক রঙে দেখা উচিত নয়।

কাজ পাওয়ার আশায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণেই কাজ পাওয়া যেত, তাহলে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের কখনও কাজের অভাব হত না। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এমন সময়ও তাঁর জীবনে এসেছে যখন দীর্ঘ কয়েক মাস কোনও কাজ ছিল না। তাই এই ধরনের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলেই দাবি করেন তিনি।

টলিউডের নানা বিতর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন অপরাজিতা। অতীতে শিল্পী ও পরিচালকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার সময়েও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলে জানান। তাঁর দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সবসময় প্রকাশ্যে চিৎকার করে করতে হয় না। অনেক সময় নিজের কাজ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানানো যায়। সেই পথেই তিনি চলেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

লাগাতার কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত বলেও স্বীকার করেছেন। পরিস্থিতি আর মেনে নিতে না পেরে এবার আইনি পদক্ষেপের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন অপরাজিতা। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহল ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানাবেন। সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।