‘অভিমান শুধু সিনেমা নয়, আমাদের জীবনের অংশ…’, ‘আগে ডেলিভারিটা হোক, বাচ্চাটা বড় হোক…’ হঠাৎ কেন এমন বললেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত?

নতুন ছবি ‘অভিমান’ মুক্তির আগে ছবিকে ঘিরে নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। তিনি জানান, ‘অভিমান’ এমন এক অনুভূতি, যা সাধারণত সবচেয়ে কাছের মানুষদের নিয়েই তৈরি হয়। এই ছবির অন্যতম প্রযোজক সৌরভ দাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ঠিক তেমনই। দু’জনের মধ্যে গভীর বিশ্বাস রয়েছে বলেই কখনও কখনও অভিমানও তৈরি হয়। যিশুর কথায়, তাঁদের এই প্রথম যৌথ উদ্যোগ, তাই শেখার এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও অনেক।

সৌরভ দাসের সঙ্গে কাজ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও সেসব নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না যিশু। তাঁর মতে, বাইরে থেকে কেউ কোনও সম্পর্ক বা কাজের প্রকৃত সমীকরণ বুঝতে পারেন না। তাই সমালোচনা বা বিচার নিয়ে তিনি আর মাথা ঘামান না। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ট্রোলিং খারাপ লাগলেও সময়ের সঙ্গে সেই প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে।

অভিনয় জীবনের দীর্ঘ পথচলার কথা বলতে গিয়ে যিশু জানান, একসময় ছোট চরিত্রে কাজ করলেও ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, শুধু পরিশ্রম নয়, সাফল্যের জন্য ভাগ্য এবং প্রতিভাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই একসঙ্গে শুরু করলেও সবাই একই জায়গায় পৌঁছতে পারেন না। নিজের সাফল্যের পিছনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং কঠোর পরিশ্রমকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।

ব্যক্তিগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে যিশু বলেন, সাফল্য তাঁকে বদলে দিয়েছে কিনা, সেটা অন্যরা ভালো বলতে পারবেন। তবে বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর চিন্তাভাবনায় পরিণতিবোধ এসেছে। আগে বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটালেও এখন নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। যদিও কাছের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক এখনও আগের মতোই অটুট রয়েছে।

‘অভিমান’ ছবির সহ-অভিনেতাদের নিয়েও উচ্ছ্বসিত যিশু। বিশেষ করে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর অসাধারণ উন্নতি হয়েছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেও তিনি ইন্ডাস্ট্রির বড় দাদা বলে উল্লেখ করেন। ছবির সাফল্য নিয়ে আশাবাদী যিশুর দাবি, তিনি ও সৌরভ অত্যন্ত যত্ন এবং ভালোবাসা দিয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন, তাই এই কাজ তাঁদের কাছে শুধুই একটি সিনেমা নয়, বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অভিনেতাকে তার নতুন কাজের প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনও নয়। আগে আমাদের বাচ্চার ডেলিভারি হোক। একটু বড় হোক বাচ্চা তারপরে।’