বাংলা টেলিভিশনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক হলো স্টার জলসার অনুরাগের ছোঁয়া। যেখানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় অভিনেত্রী স্বস্তিকা ঘোষ এবং অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্তকে। শুরু প্রথম থেকেই সূর্য এবং দীপার জুটি অত্যন্ত পছন্দ দর্শকের। তবে বহুদিন ধরে এসে জুটিকে আর একসাথে দেখা যাচ্ছে না কারণ সূর্য বন্ধু মিশকার কারণে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন দর্শকের এই ধারাবাহিককে ভালোবাসার মূল কারণ হলো তাদের দুই যমজ মেয়ে সোনা এবং রুপা।
তবে সম্প্রতি পর্বগুলিতে রুপার থেকেও বেশি সোনার অভিনয় মুগ্ধ করছে দর্শকদের। কিছুদিন আগে পর্যন্ত রুপার আনন্দ এবং দুঃখে দর্শকরা কষ্ট পাচ্ছিল। প্রথম দিকে রুপার চুলবুলি স্বভাব এবং ছটফটে অভ্যাস সবকিছুই দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। সম্প্রতি সোনার হাসি কান্না সবকিছুই জুড়ে গেছে দর্শকের সঙ্গে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে সূর্য দীপার সামনে আস্তে আস্তে সোনা রুপার আসল পরিচয় চলে আসছে। কিন্তু নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা সত্যিই তাকে সামনে থেকেও দেখতে পারছেনা। আর তাদের জন্যই ছোট বাচ্চা দুটো কষ্ট পাচ্ছে।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি পর্বে দেখা যাচ্ছে দীপা জানতে পেরেছে যে তার যমজ সন্তান হয়েছিল। কিন্তু রূপা তার কাছে থাকলেও তার আরেক মেয়ে কোথায় আছে সে জানে না। সে মনে করছে মিশকা কোন ভাবে তার আরেক মেয়েকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছে। সে হয়তো নিজের বাবা মাকে না পেয়ে অত্যন্ত কষ্টে বড় হচ্ছে। যার জন্য মনে মনে দুঃখে কষ্টে শেষ হয়ে যাচ্ছে দীপা। সেই কথা আসে সূর্যকে পর্যন্ত বলতে পারছে না কারণ সূর্যকে কিছু বলতে গেলেই সে দীপাকে ভুল বুঝছে। একবারের জন্য তার মনে হয়েছিল যে সোনা তার মেয়ে কিন্তু লাবণ্য সেনগুপ্ত তার সামনে আসল সত্যি বলেনি।
তবে এই সবকিছুর মধ্যে সোনা জানতে পেরে গেছে যে তার বন্ধু রুপার আসল মা হলো দীপা অর্থাৎ তার ফুলমা। সেটা জানতে পারার পরে সে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছে এবং দীপা ও রুপার কাছ থেকে কেন তারা মিথ্যে কথা বলল সেই কথা জানতে চেয়েছে। দীপা, তাকে বুঝিয়ে বললেও তার ছোট্ট মনে সেটা খুবই গভীর প্রভাব ফেলেছে। যার জেরে সে বাড়িতে এসেও কারো সাথে কথা বলছে না যখন লাবণ্য সেনগুপ্ত অর্থাৎ তার দিদিভাই তাকে জিজ্ঞাসা করেছে যে কি হয়েছে তখন সে বলে যে রূপার যদি মা থাকে তাহলে তারও মা কেন থাকবে না! আর তার ফুলমা কি তার আসল মা হতে পারে না!
এইসব ভেবে এসে মন্দিরে গিয়ে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছে যাতে সে খুব তাড়াতাড়ি তার নিজের মাকে খুজে পাই। উল্টোদিকে নিজের হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খোঁজার জন্য দীপাও সেই মন্দিরে এসেছে। এসে দুর্বলতার জন্য অজ্ঞান হয়ে গেছে আর তাকে তোলার জন্য সোনা কাতর মিনতি করছে ঠাকুরের কাছে। এই দেখে চোখে জল চলে এসেছে দর্শক থেকে শুরু করে নেটিজেনদের। এত ছোট্ট একটা মেয়ে কী সুন্দর সাবলীল অভিনয় করছে। নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের কান্নার সাথে সাথে দর্শকদের কেউ কাঁদতে বাধ্য করছে। তাই দর্শকরা বলছে একদিন অনেক বড় অভিনেত্রী হবে এই ছোট্ট সোনা।





