বিংশ শতাব্দীতে মেয়েদের পড়াশোনা করাটাকে কেমন চোখে দেখা হত সেটাই তুলে ধরছে কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ ধারাবাহিক! তবে সবকিছুর মধ্যে মানিকের কমলার পাশে দাঁড়ানো দেখে মুগ্ধ দর্শক

যারা ধারাবাহিক দেখেন তারা জানেনই কমলা একজন শান্ত শিক্ষিত মেয়ে, আর তার সাথে বিয়ে হয় পৃথ্বীরাজের। পৃথ্বীরাজ একেবারে দস্যিপনায় ভরা একটা ছেলে। আর এই দস্যিপনায় ভরা ছেলেকে সোজা করতেই শ্রীমানের বাবা কমলার সাথে বিয়ে দেন। কিন্তু শ্রীমান আর সোজা হয়না, ফুলশয্যার রাতেও শ্রীমান আবারও দস্যিপনা করে। শুধু তাই নয়, সেই সময়কার নারী স্বাধীনতার হস্তক্ষেপের দিকগুলিও তুলে ধরা হয়েছে।

সেই সময়ে শিক্ষা ছিল ১ জনকে খুন করার সমান। আর সেই দিকটাও ফুটে উঠেছে এই ধারাবাহিকে। সম্প্রতি পর্বে দেখানো হয়েছে, কমলাকে ইংরেজি গান গায় কারণ মানি চেয়েছিল তার গলায় গান শুনবে, আর তাই দেখে সকলেই অবাক হয়ে যান। কমলা জানায়, এই গান মেমসাহেবের থেকে শিখেছে। এরপর তাঁর শাশুড়ি জিজ্ঞেস করে লেখাপড়া?

তখন কমলা জানায় সে লেখাপড়া জানে। কমলার বাড়িতে কখনোই পড়াশোনা নিয়ে কোন বাধা ছিল না তার বাবা চাই তো তাকে সবকিছুতে পটু করতে। কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ি তেমন নয়। তার শ্বশুরবাড়ি কুসংস্কার আচ্ছন্ন। কমলা পড়াশোনা জানে এ কথা জানার পর তাঁকে বলা হয় ‘লেখাপড়া করলে বর মরে যায় জানিসনে। এরপর দেখা যায় ইংরেজি গান করার অপরাধে কমলার মাথায় গোবর ঢেলে প্রায়শ্চিত্ত করায়।

কমলার শাশুড়ি বলে ওঠে এমন অলক্ষণে অনাসৃষ্টি মেয়ে জানলে কখনোই তাকে বাড়ির বউ করে আনতো না। এই দেখে শ্রীমান প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, ‘আমার অরেঞ্জকে গোবর খাওয়াবে, দ্যাখো আমি কী করি’। এই পর্ব দেখে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘উনবিংশ শতাব্দীর মেয়েদের সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থান তুলে ধরেছে কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ ধারাবাহিকে। এই গল্পে একটু হলেও সেই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যে শুধুমাত্র নারী হয়ে জন্মানোর জন্য। নারীদের কোন চোখে দেখা হয়।

এই সবকিছুতে একটি জিনিস কিন্তু দর্শকদের নজর এড়ায়নি। আর এত কিছু মন্দ ঘটলেও সেই জিনিসটি দর্শকদের মন ছুয়ে গেছে। প্রতিটি মেয়ে চায় তার পাশে আর কেউ থাকুক বা না থাকুক তার স্বামী যেন তার পাশে থাকে। আর এক্ষেত্রে কমলার পাশে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়েছিল পৃথ্বীরাজ। নিজের বউয়ের অপমান মেনে নেয়নি সে আর এই বিষয়টি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এর বদলা পৃথ্বীরাজটি কিভাবে নেয় এখন সেটাই দেখার বিষয়।