দীপার কথা না শুনে ভিক্টরকে মেনে নিল লাবণ্য, অপমানিত হলেও নিজের দায়িত্বে অনড় দীপা

এত উপকার করেও কোনদিনও এতোটুকু সম্মান পেল না স্টার জলসার (Star jalsha) অনুরাগের ছোঁয়ায় (Anurager chowa) ধারাবাহিকের নায়িকা দীপা। প্রতিমুহূর্তে অপমানিত অসম্মানিত হতে হয়েছে তাকে। যতবার সে তার পরিবারের মানুষদের ভালো করতে গেছে, তারা উল্টে দীপাকেই ভুল বুঝেছে। আর এইবারেও তার অন্যথা হলো না। এই মুহূর্তে ধারাবাহিকের গল্প এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে যে, টিআরপি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমান গল্প অনুযায়ী, নিজের অসুস্থ মেয়েদের বাড়িতে রেখে দীপা ছুটে আসে তিস্তাকে সাহায্য করতে। কিন্তু তার প্রাক্তন শাশুড়ি এবং গোটা শ্বশুর বাড়ি তাকে ভুল বোঝে। তাকে অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। কেবলমাত্র প্রবীর এর বিরোধিতা করে। তিস্তা থেকে শুরু করে বাকি প্রত্যেকের দীপাকেই দোষী বলে মনে করে। বারবার নিজেদেরকে তারা চরম-অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়।

ধারাবাহিকির আজকের পর্বে দেখা যায়, লাবণ্য সেনগুপ্ত দীপাকে বলছে, সে যেনো এখান থেকে চলে যায় আর কক্ষনো ফিরে না আসে। অনেক করেছে সেই পরিবারের জন্য, অনেক ক্ষতি করেছে। সব শুনে অর্জুন দীপাকে চলে আসতে বলে। কারণ সে আর দীপার অপমান সহ্য করতে পারছিল না। কথাগুলো শুনে ভীষণ কষ্ট হয় দীপার। কারণ বিয়ের পর থেকে প্রত্যেকটা মুহূর্ত সে ওই বাড়ির ভালো চেয়ে এসেছে। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এসে দেখতে পায় সে মুহূর্তে বাড়িতে এসে হাজির হয়েছে ভিক্টর। দীপা তৎক্ষণাৎ তাকে বেরিয়ে যেতে বললে লাবণ্য দীপার কথাকে অমান্য করে রিক্টারকে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়।

অর্জুন দীপাকে নিয়ে বাইরে চলে আসে। সে বলে, “কোন রেসপেক্ট নেই তোর। তুই যাদের জন্য এত করলি তারা তোর কোনো কথা না শুনে এক মুহূর্তের মধ্যেই বের করে দিল। বারবার এটাই হয়ে আসছে আর তুই এখানে পড়ে রয়েছিস নিজের অসুস্থ মেয়েদের ছেড়ে?” দীপা অর্জুনকে বলে তাকে এই বাড়িতে কেউ না চাইলেও তার এই বাড়ির প্রতি একটা দায়িত্ব আছে আর সেটা সে কখনো এড়িয়ে যেতে পারবে না। দীপার মন যে বড় সেটা জানতো অর্জুন তবে আজকের এই দীপাকে দেখে সূর্যের জন্য করুনা হয় তার। এমন একটা মেয়েকে হারিয়ে ফেলেছে সে।

অন্যদিকে, ভিক্টর সেনগুপ্ত বাড়িতে ঢোকা মাত্র তিস্তার বাবা তাকে মারধর করতে থাকে। কিন্তু শেষমেষ নিজের কথার জালে সবাইকে ঠিক জড়িয়ে ফেলে ভিক্টর। এরপর সেখানে আসে পৃথা অর্থাৎ ভিক্টরের মা। সে এসে তিস্তাকে তার মনের ইচ্ছে কি সেটা জিজ্ঞাসা করে। তিস্তা নির্দ্বিধায় বলে সে ভিক্টরের সাথে থাকতে চায়। এরপর নিজের গলার সোনার চেইন খুলিয়ে তিস্তাকে পরিয়ে দেয় পৃথা। আর তাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে। তবে তার আগের সাথে করে ম্যারেজ রেজিস্টারকে নিয়ে এসেছিল সে, যাতে আর কোনও দিক থেকেই অনিশ্চিত না হতে হয়। অন্যদিকে দীপা বাড়ি ফিরে গিয়ে নিজের দুই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে নিজের কষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করে।