মা ম’রা এই ছেলের সাথে দুর্ব্যবহার ঋদ্ধিমানের! কেন এমন বাবা ছেলের সম্পর্কের সমীকরণ? গাঁটছড়ার নতুন গল্প দেখে আগ্রহী দর্শক

স্টার জলসার প্রথমসারির জনপ্রিয় বাংলা সিরিয়ালগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘গাঁটছড়া’। সময়ের সাথে একঝাঁক নতুন সিরিয়ালের ভীড়ে তলানিতে ঠেকেছে এক সময়ের বেঙ্গল টপার এই সিরিয়ালের টি আর পি। লাগাতার স্লটও হাতছাড়া হচ্ছে এই সিরিয়ালের। কিন্তু টি আর পি স্কোর যাই হোক দর্শকমহলে নায়ক নায়িকা ঋদ্ধি-খড়ি জুটির রসায়ন কিন্তু ফিকে হয়নি আজও। অনুরাগীরা ভালোবেসে তাঁদের নাম দিয়েছেন ‘খড়িদ্ধি’। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিরিয়ালের ফ্যানপেজ গুলির দিকে তাকালেই বোঝা যায় দর্শকমহলে এই জুটির জনপ্রিয়তা কতখানি।

এখন গল্প এগোবে ঋদ্ধিমান এবং তার সন্তান আয়ুষ্মানকে নিয়ে। প্রথমে এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওম সাহানের নাম শোনা গেলেও চরিত্রটি আসলে পেলেন আর্য দাশগুপ্ত। তিনি এবার খড়ির ছেলে আয়ুষ্মানের চরিত্রে অভিনয় করবেন। আর্য ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ। তিনি এর আগে কালার্স বাংলাতে মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করেছিলেন। শিশু শিল্পী হিসেবে বেশ কিছু বাংলা ছবিতেও কাজ করেছিলেন। ২০১৪ সালে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছবি ‘ফোর্স’-তে তাকে নায়কের ছেলের ভূমিকাতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল।

গল্পে শুধু শোলাঙ্কিকে বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত চরিত্ররা যেমন ছিলেন তেমন থাকছেন। ঋদ্ধিমান, দ্যুতি-রাহুল, বনি-কুনালরা যেমন ছিল তেমনই থাকছে। সবাই সেই আগের মতনই রয়েছে এমনকি দাদু ঠাম্মাও এখনো অব্দি সচল। ধারাবাহিক থেকে বিদায় নিয়েছে কেবলমাত্র খড়ি। নতুন গল্প অনুসারে রকস্টার আয়ুষ্মান এখন গাঁটছড়ার নতুন নায়ক। তাকে ঘিরে এগোবে গল্প। সেই সঙ্গে বাবার সঙ্গে তার সম্পর্কের সমীকরণ কেমন হয় সেটাও দেখার। যদিও খড়ির এই পরিণতি দর্শকরা মেনে নিতে পারছেন না। তাদের দাবি এর থেকে সিরিয়াল শেষ হলে ভাল হত। সিরিয়ালের নতুন নায়িকা হিসেবে থাকছেন কথা চক্রবর্তী।

বর্তমানে ধারাবাহিকের ট্র্যাক অনুযায়ী রিদ্ধিমান এবং আয়ুষ্মান এর মধ্যে বাবা ছেলে সুলভ কোন সম্পর্কই বিদ্যমান নেই। যেহেতু আয়ুসকে জন্ম দেওয়ার সময়ই মারা গিয়েছিল খড়ি তাই আয়ুষকে বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারে না ঋদ্ধিমান। ঘড়ির মৃত্যুর জন্য বরাবর আয়ুষ্মানের দিকে আঙুল তুলেছে ঋদ্ধিমান। তাও খুব শান্তভাবে নিজের বাবাকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে বেচারা আয়ুষ।

এই দিনের পর্বে ঋদ্ধিমান যখন আয়ুষকে কলেজের স্টুডেন্টের সামনে গান গাওয়ার জন্য শাস্তি ঘোষণা করছিল তখন আয়ুষ্মান বলে ওঠে সেটা তার মায়ের জন্য করেছে। তখন বৃদ্ধিমান তাকে বলে সে তার মাকে কতটুকুনি চেনে যার প্রত্যুত্তরে তাকে চেনার কখনো সুযোগই করে দেওয়া হয়নি। এই কথায় আয়ুষ এর প্রতি বেশ মায়া হয় দর্শকদের। সত্যিই তো ঘুড়ির মারা যাওয়ায় আয়ুষ এর কি দোষ? দোষ না করেও শাস্তি পাচ্ছে মা-বাবার আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত থাকছে আয়ুষ।