রাগ, হিংসা মানুষকে শয়তানে পরিণত করে। জি বাংলা (Zee Bangla) চ্যানেলে এর কার কাছে কই মনের কথা (Kar kache koi moner kotha) ধারাবাহিকটিতে ঠিক এমনি একটি চরিত্র হলো রঞ্জা। তার ক্ষোভের শিকার হচ্ছে পুতুল। বিয়ের পর সুখের মুখ দেখবে ভেবেছিল সে, কিন্তু সেই সুখ পুতুলকে কিছুতেই পেতে দিচ্ছে না রঞ্জা। কমবেশি অনেক গৃহ বধুই এমন অত্যাচারের শিকার। সেই বাস্তব তুলে ধরছে এই ধারাবাহিক।
ধারাবাহিকের বর্তমান গল্প অনুযায়ী, তীর্থঙ্করের বৌদি রঞ্জা ভেবেছিল, একটা পাগল হাবা গোবা অসুস্থ মেয়েকে বিয়ে করছে তার দেওর। এতে তো তারই সুবিধা হবে। তীর্থ তার কেনা গোলাম হয়ে থাকবে। কিন্তু তার সেই গুরে বালি। অসুস্থ হলেও মন দিয়ে ভালো বাসতে জানে পুতুল। আর পুলকেও ভালোবাসে তীর্থ। নিজের দেওরের প্রতি দুর্বলতা রঞ্জাকে বার বার খেপিয়ে তুলছে। তাই প্রথমে বিয়েতে রাজি হলেও পরে নানা রকম ভাবে সে বুঝিয়ে দিয়েছে, তার বিয়েতে মত নেই।
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, তীর্থ আর পুতুল তৈরি হয়ে গিয়েছে অষ্টমঙ্গলায় মধুবালার বাড়ি যাবে বলে। কিন্তু রঞ্জা ইচ্ছে করে তীর্থকে নানা রকম কথা বার্তা বলে আটকানোর চেষ্টা করে। এতে কাজ হচ্ছে না দেখে ঝগড়া করা শুরু করে, পুতুল তখন বলে, সে যেনো এভাবে ঝামেলা না করে আর তারপর রঞ্জাকে প্রণাম করতে যায়। রঞ্জা তখন বিরক্ত হয়ে পুতুলকে জোরে ধাক্কা মারে আর টেবিলের কনায় লেগে পুতুলের মাথা অনেকটা ফেটে যায় আর রক্ত বেরোতে থাকে। সেটা দেখে খুব ভয় পেয়ে যায় তীর্থ, আর সঙ্গে সঙ্গে ধমক দিয়ে ওঠে তার বৌদিকে। এরপর পুতুলের জন্য ফাস্টেড বক্স নিয়ে আসতে যায় সে। এই সমস্ত ঘটনাটাকে নাটক বলে আখ্যা দেয় রঞ্জা।
অন্যদিকে পুতুল আর জামাইয়ের জন্য রান্না বান্না করছে মধুবালা আর শিমুল। বিপাশা মধুবালা কে কৃতজ্ঞতা জানায় কারণ সে না থাকলে তাদের হয়তো থাকার জায়গা হতো না। মধুবালা তখন বলে, বিপাশা তার মেয়ের মতন তাই এই বাড়িতে থাকতে তাকে একটা টাকাও দিতে হবে না। তারা সুখে শান্তিতে যতদিন পারবে এই বাড়িতে থাকতে পারে এতে তারই ভালোই লাগবে। তখন শিমুল বলে সে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা চাকরি খোঁজার চেষ্টা করছে যাতে এই বাড়ির ভাড়া দিতে পারে এবং নিজেদেরকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই শুনে বিপাশা বলে শিমুল একা নয় সেও চেষ্টা করছে।
ঘরে এতক্ষণ একা একা শুয়ে ছিল পরাগ। উঠতে গিয়ে হঠাৎ করেই বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে চিৎকার করে ওঠে সে। কিন্তু তার চিৎকার নিচে পৌঁছয় না। এদিকে, কাকিমা বলে, আর কিছুদিন পরেই তুতুল এর বিয়ে। এর এই বিয়েটা শিমুল বিপাশা দেরকেই দায়িত্ত্ব নিয়ে দিতে হবে। এমন সময় তুতুল বলে ওঠে, তার মনে হচ্ছে দাদা ভাই উপর থেকে ডাকছে। সবাই মিলে গিয়ে দেখে পরাগ পড়ে গিয়েছে। তাকে গিয়ে আবার বিছানায় শুইয়ে দেয় মধুবালা, কাকিমা। পরাগ তখন শিমুলকে বলে, “দুটো সইয়ের ব্যাপার, একটা সইতে বিয়ে হবে তুমি চাকরিটা পাবে আর আরেকটা সইতে আমাদের আবার ডিভোর্স হবে। দয়া করে রাজি হয়ে যাও শিমুল নইলে এই চাকরিটা আর বাঁচানো যাবে না।” এমন অবস্থায় পরাগের বলা কথাগুলো নিয়ে বারবার ভাবতে থাকে শিমুল। বিপাশা ভাবতে থাকে শিমুল যদি রাজি হয়ে যায় তাহলে শতদ্রুর কি হবে।





