বাঙালি না হলেও বাংলার নায়িকাদের থেকে কিছু কম যায় না কলকাতা সিরিয়ালের অবাঙালি নায়িকারা। মন মাতানো রূপ এবং অসাধারণ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে তারা জয় করে নিয়েছে হাজার হাজার সিরিয়াল প্রেমী দর্শকের মন। এদের মধ্যে এমন চার নায়িকার বিষয় জেনে নেওয়া যাক জরা বর্তমানে বেশ দাপটের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে বাঙালি নায়িকাদের। এদের দেখে কে বলবে এনারা অবাঙালি? এরা সিরিয়ালগুলোতে সাবলীলভাবে বলে চলেছেন বাংলা ভাষায় কথা। এই তালিকার সর্বাগ্রে রয়েছেন চার কন্যা – অ্যানমেরি টম, নেহা আমনদীপ, পল্লবী শর্মা ও শ্বেতা মিশ্র। এই চারজনকে নিয়েই প্রতিবেদন।

অ্যানমেরি টম :
ব্যারাকপুরের মেয়ে, পড়াশোনা করেছে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। চিনুন অর্ধেক বাঙালি, অর্ধেক মায়ালয়ি অ্যানমেরি টম-কে। গ্রামের রানি বীণাপানি-তে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করছেন অ্যানমেরি টম। বাংলায় বড় হলেও অ্যানমেরি অর্ধেক বাঙালি, অর্ধেক মালায়লি। দীর্ঘদিন ধরেই মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অ্যানমেরি। একাধিক বিজ্ঞাপনী প্রচারের অংশ হয়েছেন অ্যানমেরি। তবে এই ধারাবাহিকের সঙ্গেই ছোটপর্দায় অভিনয়ে হাতেখড়ি অ্যানমেরির। ব্যারাকপুরের মেয়ে অ্যানমেরি সেন্ট কার্লেট স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে, স্নাতোক ডিগ্রী লাভ করেছেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন অ্যানমেরি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী অ্যানমেরি। নাচই তাঁর প্রথম ভালোবাসা। অ্যানমেরির ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে তিনি নিজেকে ডান্সার ও কোরিওগ্রাফার হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

নেহা আমনদীপ :
নেহা অমনদীপ একজন অভিনেত্রী হলেও তিনি মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বিগ বাজার, প্রাণ ও হরলিক্সের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সাহারা ওয়ানের টেলিভিশন ধারাবাহিক সাহেব বিবি গোলাম এ শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিষেক ঘটে তার। নেহা অমনদীপ অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হে প্রভু দেখা দে ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল ওড়িয়া ভাষায়। ২০১৬ সালে স্ত্রী ধারাবাহিকের মাধ্যমে বাংলা টেলিভিশন জগতে অভিষেক ঘটে তার।এরপর, তিনি ওঁ নম শিবায় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। এছাড়া, ২০১৮ সালে তাকে স্টার জলসার দুর্গাপূজার টিভি নাটক দুর্গতিনাশিনী দুর্গা য় দেখা গিয়েছিল। নেহা অমনদীপকে ২০১৯ সালে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই ও জয় জয় দেবী শিরোনামের দুইটি টেলিভিশন চলচ্চিত্রে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া, তাকে ২০১৯ সালে ছোটপর্দায় দিদি নাম্বার ১ ও ঠাকুমার ঝুলি তে দেখা গিয়েছিল। তার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র প্রেম চোর ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। বর্তমানে, তিনি কনে বউ শিরোনামের একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। স্ত্রী নামক ধারাবাহিকের পর একাধারে ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন নেহা।

পল্লবী শর্মা :
পল্লবী শর্মা একজন ভারতীয় বাংলা টেলিভিশন অভিনেত্রী। তিনি স্টার জলসার কে আপন কে পর ধারাবাহিকে ‘জবা’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কে আপন কে পর ধারাবাহিকে কাজ করা শুরু করেছিলেন। তিনি সানন্দা টিভি-তে ‘নদের নিমাই’ ধারাবাহিকে ‘লক্ষ্মীপ্রিয়া’ চরিত্রটি তে অভিনয়ে করেছিলেন। তিনি দশম-একাদশ শ্রেণী তে পড়ার সময় ইটিভি বাংলা (কালার-স বাংলা) প্রচারিত ‘দুই পৃথিবী’ ধারাবাহিক এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তারপর আবার তিনি ২০১৬ সালে স্টার জলসা চ্যানেল এর ‘কে আপন কে পর’ ধারাবাহিক এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার বিপরীতে ছিলেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ। তিনি বি. কম এ স্নাতক নিয়ে কলকাতার এক নামি কলেজে ভর্তি হন ২০১৫ সালে। তিনি ‘কে আপন কে পর’ ধারাবাহিক এর প্রধান চরিত্র ‘জবা’ চরিত্রে অভিনয় করে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পপুলারিটি পেয়েছিলেন। ধারাবাহিক টি শেষ হয় ২০২০ সালে, তারপর তিনি বিরতি নেন। ২০২২ সালে তিনি আবার অভিনয় জগতে ফিরলেন, জী বাংলা চ্যানেল এর একটি ধারাবাহিক ‘নিম ফুলের মধু’-র প্রধান চরিত্রে।

শ্বেতা মিশ্র :
বহরমপুরে জন্ম শ্বেতার। স্কুলও বহরমপুরে। কলেজ কলকাতায়। স্কটিশ চার্চ থেকে স্নাতক পাশ করে চাকরি করতে ঢুকে যান অভিনেত্রী। খুব যে কসরত করতে হয়েছে অভিনেত্রী হওয়ার জন্য, তা নয়। ছোট থেকে অভিনেত্রী হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল না তাঁর। মঞ্চে অভিনয় করার সূত্রে ছোট পর্দায় সুযোগ পান শ্বেতা। ‘কলর্স বাংলা’-য় ‘জাহানারা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন তিনি। তার পরে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার সূত্রে তাঁর কাছে বড় পর্দায় ডাক আসে। ‘বিগ ব্রেক’ বলতে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘প্রেম টেম’। একাধিক ধারাবাহিকে খলনায়িকার চরিত্রে ধরা দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র।





