খলনায়িকার চরিত্রেই বেশিরভাগ সময় অভিনয় করে এসেছেন রূপাঞ্জনা মিত্র। তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে সকলেই যুদ্ধের সৈনিক। দুঃখ পেলে রূপাঞ্জনা কেঁদে হালকা করে নেন নিজেকে। তেইশ বছরের অভিনয় জীবনে চড়াই-উতরাই কম আসেনি। কিন্তু রূপাঞ্জনা তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে পড়াশোনা করতে পছন্দ করেন তিনি।
অযথা খোলামেলা পোশাক পরে ছবি তুলে তা ইন্সটাগ্রামে শেয়ার করা রূপাঞ্জনার স্বভাববিরুদ্ধ। তিনি মনে করেন, একজন মহিলা যদি অপর একজন মহিলার অনুরাগী হয়, তাহলে সেটাই তাঁর জয়। রূপাঞ্জনার মতে, মহিলারা একজোট হলে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কিছুই বদলে যাবে। পরিচালক অরিন্দম শীল (Arindam Shil) স্বাভাবিক কারণেই তাঁর চক্ষুশূল। রূপাঞ্জনা এতগুলি বছর পেরিয়েও তাঁকে সহ্য করতে পারেন না। স্টার জলসার একদা জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ভূমিকন্যা’-য় অভিনয় করেছিলেন রূপাঞ্জনা।

এই সিরিজের পরিচালক ছিলেন অরিন্দম। ওই সময় ‘ভূমিকন্যা’-র চিত্রনাট্য পড়ে শোনানোর জন্য রূপাঞ্জনাকে নিজের অফিসে ডেকেছিলেন অরিন্দম। সেদিন অফিস ফাঁকা ছিল। প্রোডাকশনের কর্মচারী ছাড়া আর কেউ ছিল না বলে জানিয়েছেন রূপাঞ্জনা। অরিন্দম, রূপাঞ্জনাকে চা দিতে বলেন। চা দিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে কৌশলে সরিয়ে দেন অরিন্দম। এরপর তিনি নিজের স্থান থেকে উঠে ঘরেই একটি কাউচে বসেন।
রূপাঞ্জনার মতে, সেদিন অরিন্দমের ব্যবহার ও কথা বলা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ ছিল। অরিন্দম তাঁকে মাথায় ও গায়ে অযাচিত ভাবে স্পর্শ করেছিলেন। কিন্তু রূপাঞ্জনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অরিন্দম বলেন, তিনি এতটা খারাপ হলে রূপাঞ্জনা নিজেই তাঁর সাথে কাজ করতে চেয়ে মেসেজ করেছিলেন কেন! তবে রূপাঞ্জনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অরিন্দমের প্রথম স্ত্রী তনুরুচি (Tanuruchi)। আইনত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি তাঁদের। তবে তনুরুচিও অরিন্দমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন।
![]()
রূপাঞ্জনা বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখনও অবধি অরিন্দমের সাথে রয়েছে তাঁর তিক্ততা। নিজের সাথে হওয়া অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি অভিনেত্রী। তার সাথে যেটা হয়েছে সেটা যাতে অন্য কোন অভিনেত্রীর সঙ্গে না হয় তার জন্য মাথা উঁচু করে সর্বসমক্ষে আওয়াজ তুলেছেন তিনি। বর্তমানে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে কাজ করছেন রূপাঞ্জনা।





