বাবাকে না পাওয়ার কষ্ট কুরে কুরে খাচ্ছে ছোট্ট রূপাকে, সূর্যর জন্য রূপার কাছে দোষী হয়ে যাচ্ছে লাবণ্য সেন

কেউ কিছুই জানাচ্ছে না রুপাকে। রুপা বারবার চাইছে সবাই যেন তাকে আর মিথ্যা কথা না বলে সে কথায় কথায় এমন কিছু ইঙ্গিত পূর্ণ কথা বলছে যাতে দীপা লাবণ্য সেন সবাই বুঝতে পারছে যে এই বাচ্চাটা হয়তো কিছু একটা জানতে পেরেছে কিন্তু আসল সত্যিটা তারপরও প্রকাশ করছে না তার সামনে। যার ফলস্বরূপ রুপার মানসিকতায় আসছে এক বিস্তার পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনই তাকে অনেক বেশি রুক্ষ এবং কঠোর করে তুলেছে।

সহ্যের একটা সীমা হয়, যে সীমাটা ধীরে ধীরে পার করে যাচ্ছে রুপা। একটা বাচ্চা মেয়ে যার বয়স এখন পড়াশোনা করা খেলা করা মা-বাবার বুকে থাকা, ঠাম্মা দাদুর কোলে ঘুরে বেড়ানো সেই বয়সে রুপা এক কঠিন সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছে। প্রতিনিয়ত এসব ঘুরতে থাকা ঘটনায় আর সহ্য করতে না পেরে হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে রুপা। এমন আশঙ্কায় আশঙ্কিত দর্শকরা।

খানিকটা সূর্যের জন্যই তার জেদ তার গোয়ার মনোভাবের জন্যই জন্যই দিন দিন আরো বেশি অধৈর্য এবং অস্থির হয়ে পড়ছে রুপা। কোন মেয়ে যদি জানতে পারে তার বাবা তাকে মেনে নিতে চায় না স্বীকার করতে চায় না তাহলে তার মনের অবস্থা ঠিক কি হয় সেটা বোধহয় সেই মেয়েটি ভালো বুঝতে পারে।

আর রুপা তো বাচ্চা মেয়ে তার সবটা বোঝার ক্ষমতাও এখনো হয়ে ওঠেনি। তার মধ্যে থেকেও সে যেটুকুনি বুঝছে সেটুকুনি তার কাছে তার শরীরে তার মাথায় বিষের মত আঘাত করছে। সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে লাবণ্য সেনকে ভুল বোঝে রুপা। কোথাও গিয়ে রুপার মনে হচ্ছে যা সমস্ত হচ্ছে সবকিছুর জন্য দায়ী লাবণ্য সেন।

সেদিন রুপার জন্য আনা চকলেট টা যখন সোনা তাকে দিল আর বলল তাদের দিদিভাই তাদের জন্য চকলেট দিয়েছে রুপা কিছুতেই নিতে চাইনি। শুধুমাত্র তাই নয়। সবার সামনে লাবন্য সেনকে বলেছে যা হচ্ছে সব তোমার জন্য হচ্ছে সবকিছুর জন্য তুমি দায়ী। এই সমস্ত কিছুই প্রমাণ করে রূপার মধ্যে এখন কি চলছে এবং সে কি ভাবছে।