কখনও নাটকের মঞ্চে, কখনও বা বুদ্ধিজীবীদের মিছিলে— তিনিই প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। তিনি, চন্দন সেন (Chandan Sen)। বাংলার রঙ্গমঞ্চ থেকে ছোটপর্দা, নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। ইচ্ছে নদী, ইষ্টি কুটুম, আঁচল, কুসুম দোলা, ত্রিশূল, শ্রীময়ী, নেতাজি, সন্ন্যাসী রাজা, অন্দরমহল, কনে বউ, খড়কুটো সহ একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। শেষবার তাকে ছোটপর্দায় দেখা গেছে ম্যাজিক মোমেন্টের ধারাবাহিক জল থই থই ভালোবাসাতে।
কিডন্যাপ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ব্যোমকেশ বক্সি, সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেট, মানিকবাবুর মেঘ সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করছেন চন্দন সেন। বাক্স্বাধীনতা হারানোয় বিশ্বাসী নন তিনি, বরং স্পষ্টবাদী, ক্ষুরধার তাঁর প্রতিবাদ, শৈল্পিক চিন্তাধারা, মনন এবং জীবনদর্শন। তার কলম কাউকে ডরায় না, বরং সবর হয় বার বার। মারণরোগ ক্যানসারের সঙ্গে তুমুল লড়াই করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তার কাছে জীবনের মূল মন্ত্র শিক্ষা। যার কোন শেষ নেই।

সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে নিজের জীবনে বিষয়ে নানান কথা তুলে ধরেছিলেন অভিনেতা। অভিনেতার মতে, বর্তমানে অভিনেতা অভিনেত্রীরা চরিত্রকে আত্মস্থ করতে জানান না। “যে কাজ করতে যান সেটা নিয়ে যদি সম্বন্ধ ধারণা না থাকে তাহলে ভাসা ভাসা ঘটনাই ঘটবে। আমার মতে এটাই সমস্যা। এরা নিজেদের বাড়ি, বন্ধুবান্ধব, ফ্লোর নিয়ে পড়ে আছে। সময়ের ঘূর্ণিপাকে অবন্ধ। এটা যতটা ব্যস্ত চুল ঠিক আছে কিনা, আইল্যাস ঠিক আছে কিনা নিয়ে, ততটা যদি চরিত্রটা নিয়ে হত তাহলে সমস্যা হত না।”
মারণরোগ ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন চন্দন সেন, কেমন ছিল সেই লড়াইয়ের সময়টা?
অভিনেতা জানান “প্রথম দুই সপ্তাহ মনে হয়েছিল কেন আমি। আমিই কেন? তারপর আমার কাছের মানুষরা আমায় সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল। তারা যেভাবে আমাকে ঘিরে ধরল। চারপাশ থেকে যেভাবে আমার সাহায্য করল। এই ঘটনাটা হওয়ার পর আমি বুঝেছি আমি সারাটা জীবন যেভাবে কাটিয়েছি, আমি ঠিক করেছে। তা নাহলে এতো মানুষ আমায় সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসতেন না। আমায় টেনে দাঁড় করিয়েছে। এখন আমায় তাদের সঙ্গে থাকতে হবে, আমি থাকতে চাই। যতদিন আছি এই কথা যেন তাদের মুখ থেকে না শুনি তুই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিস আমার সঙ্গে। আমায় যখন বলল রে দিতে হবে তবে ভয়েস বক্সের খুব কাছে। তাহলে ভয়েস বক্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে আমি বলেছিলাম ছেড়ে দিন তাহলে। আর কতদিন আছি বলে দিন।
আরও পড়ুন: সূর্যকে বাঁচাতে অনেক বড় ঝুঁকি নিলো দীপা! শেষ ঘুরতে বদলে গেলো ইরা!
অভিনেতা আরও বলেন “১১ দিন ধরে আমার ভয়েস বক্স বাঁচানোর জন্য একটা কাঠের ওপর ওরা এক্সপেরিমেন্ট করেছে। যেকারনে আমায় ২৫ মিনিট কেমো দেওয়া হত। হাত ঘাড় সব পোড়া ছিল এখনও আছে। ৩৮টা কেমো দেওয়ার পর হাতে কোন শিরা বাকি নেই। এখন ক্যানসার রিল্যাপ্স করলে গলা কাটতে হবে। আর উপায় নেই। একটা জাল দিয়ে আমার মাথার চারিদিক বেঁধে দিতেন যাতে আমি নাড়াচাড়া না করি। তারা আমায় ভয়েস বক্স বাঁচিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ আমায় ৬ জন চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু আমার কাছে একটা টাকাও নেননি। বলেছিলেন একদিন খারাপ পাঠ করে দেখ তোমার কাছ থেকে কিভাবে টাকা আদায় করতে হয় আমরা জানি। ভাস্কর ব্যানার্জী, শান্তিলাল মুখার্জী, এরা জনে জনে গিয়ে টাকা তুলেছে। টাকার জন্য সাত দিন কৌশিক সেন, ব্রাত্য বসু পর পর ফেস্টিভ্যাল করেছে।”






