ক্লাস নাইনে ধরা পড়ে বাবার ক্যানসার! ছোটবয়সেই সংসারের হাল ধরেছিলেন দিতিপ্রিয়া!

অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন শিশুশিল্পী হিসেবে। ২০০৮ সালে মাত্র ছ’বছর বয়সে ‘দুর্গা’ ধারাবাহিকের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল অভিনেতার যাত্রা। অভিনয় কাকে বলে না বুঝলেও কাজ করতে বেশ মজাই লাগত তাঁর। তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় (Ditipriya Roy)। এরপর ‘অপরাজিত’, ‘তোমায় আমায় মিলে’ ধারাবাহিকের অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ২০১৫ সালে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘রাজকাহিনি’-তে তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে সকলের।

পড়াশোনা আর ধারাবাহিকের কাজ মিলিয়ে বেড়ে উঠছিল ছোট্ট মেয়েটি। হঠাৎ ক্যানসার ধরা পড়ে বাবার। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অভিনেত্রীকে। মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক, সকলের প্রিয় ‘রাণী মা’ হয়ে উঠলেন দিতিপ্রিয়া। বর্তমানে মনের মতো একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন, বাবা-মা আর তাঁর পোষ্য ‘পপকর্ন’কে নিয়ে বেশ দিন কাটছে তাঁর। সদ্য জীবনে এসেছেন বিশেষ একজন। অভিনয়, জীবনের লড়াই, সদ্য প্রেমে পড়া, সব নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন দিতিপ্রিয়া।

Bengali actress, Bengali Cinema, Bengali serial, Ditipriya Roy, Entertainment, Karunamoyee Rani Rashmoni, Tollywood, করুণাময়ী রাসমণি, টলিউড, দিতিপ্রিয়া রায়, বাংলা ধারাবাহিক, বাংলা সিনেমা, বাঙালি নায়িকা, বিনোদন

বাবার ক্যানসার, সংসারের হাল কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দিতিপ্রিয়া

অভিনেত্রী জানিয়েছেন যখন তিনি অভিনয় শুরু করছিলেন তখন তিনি নিজেও জানতেন না অভিনয় কি। থিয়েটার বা কোনরকম অভিজ্ঞতা ছিল না তার। তিনি আজ অবধি যা শিখেছেন সবটাই নিজের অভিনয় করতে করতে। “বাবার যখন ক্যানসার ধরা পড়ে তখন আমি ক্লাস নাইনে। তখন আমি রানী রাসমণির সুযোগ পাইনি। সেইসময়টা আমার কাছে সবচেয়ে কষ্টের ছিল। কিন্তু যখন দেখলাম বাবা তার স্ত্রী, মেয়ের জন্য লড়াই করছে। আমার মা এত শক্ত, তখন আমিও ঠিক করলাম আমিও লড়াইটা চালিয়ে যাব। তারপর রানী রাসমণির সুযোগ পাই আমি কথা ছিল ৩ মাস করব তারপর দেখতে দেখতে সেটা সাড়ে ৪ বছর হয়ে গেল।”

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা কিভাবে চালিয়েছেন দিতিপ্রিয়া

অভিনেত্রীর বলেছেন, মাধ্যমিকের সময় টানা সাত দিন পরীক্ষা দিয়ে এসে শুটিং করে ফের রাত্রে শিক্ষকদের কাছে রাত ১০টা অবধি পড়াশোনা করেছেন তিনি। তারপরই রাত জেগে রাত ৪ টে অবধি পড়ে পরীক্ষা দিয়ে ফের শুটিংয়ে গেছেন। এমনকি উচ্চমাধ্যমিকের আগে তিনি ছিলেন লন্ডনে। শুটিংয়ের পর যখন সবাই ঘুরতে যেতেন তিনি পড়াশোনা করতেন। এইভাবেই পড়াশোনা করে উচ্চমাধ্যমিকে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “ওতো অভিনয় করে ওটাই করুক, দুটো একসঙ্গে হবে না। আমি এটা কখনও মানতে চাইনি আমি অভিনয় ভালোবেসে করি কিন্তু তার জন্য আমি পড়াশোনা করতে করব না এমনটা নয়।”

আরও পড়ুন: দুঃসংবাদ! সোলাঙ্কি রায়ের কর্মজীবনে নেমে এল বিপর্যয়!

অহংকারীর তকমা! প্রেমিকের ব্যাপারে কী বললেন দিতিপ্রিয়া

অভিনেত্রী এও জানান অনেকেই মনে করেন তিনি খুব অহংকারী। কিন্তু না, আসলে তিনি খুব ‘হোম সিক’, লাজুক, বেশি কথা বলেন না। তবে তিনিও মাটিতে পা রেখেই বাঁচেন। দিতিপ্রিয়ার মতে, “আমরা দুজন একই ধরনের। আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল ইনস্টাগ্রাম থেকে। প্রথম ডেটেও আমি মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম তুমি দূরে বসো, ভালো না লাগলে চলে যাব। কিন্তু মার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল ওর। আমার ওর কাজটা খুব ভালো লাগে। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আবার আমার বয়ফ্রেন্ডও। যা বলার হয় ওকে বলি। হয়ত আর ৫-৬ বছর পর বিয়ে করব। আমি বিয়েতে বিশ্বাসী।” তবে বর্তমানে দিতিপ্রিয়ার লক্ষ্য শুধু অভিনয়।