অতীতের অন্ধকারে আলো ফেলতে আসছে “কর্পূর” ! বাস্তব রহস্যে মোড়া অরিন্দম শীলের নতুন ছবি!

গল্প বলার নিজস্ব ভঙ্গির জন্য বরাবরই আলাদা পরিচিতি পেয়েছে ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে নতুন ছবি কর্পূরের প্রযোজনায় হাত মিলিয়েছেন আদিপ্ত মজুমদার ও তাঁর সংস্থা Kahak Studios। ঘোষণার পর থেকেই ছবিটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল কৌতূহল, কারণ এর কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক সত্য ঘটনা, যা সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে গেলেও পুরোপুরি মুছে যায়নি। পোস্টার মুক্তির পর প্রকাশ্যে এসেছে টিজার, যা দর্শকদের যেন নিয়ে যায় অতীতের এক অন্ধকার করিডরে। বাস্তব আর রহস্যের মিশেলে গড়া এই গল্প বড়পর্দায় কী চমক আনবে, তা জানার আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

পরিচালনায় রয়েছেন অরিন্দম শীল, যিনি সংবেদনশীল ও গবেষণাভিত্তিক ছবির জন্য পরিচিত। কর্পূরের শিকড় প্রোথিত সাহিত্যিক দীপান্বিতা রায় এর উপন্যাস অন্তর্ধানের নেপথ্যে গ্রন্থে। তবে কেবল সাহিত্যনির্ভর উপস্থাপনা নয়, বাস্তব ঘটনার সঙ্গে পরিচালকের কল্পনার সূক্ষ্ম মিশেল গল্পটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সময়টা ১৯৯৭। শহর তখন বদলের পথে, তবু তার অন্দরমহলে লুকিয়ে ছিল অনেক অজানা অন্ধকার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি কন্ট্রোলার মনীষা মুখোপাধ্যায় একদিন কর্মস্থলে গিয়েও আর ফেরেননি বাড়িতে। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এই ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল মহলে মহলে, কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও তাঁর আর খোঁজ মেলেনি।

ঘটনার প্রায় দুই বছর পর সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনীষার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একের পর এক ফাঁকা মার্কশিট, যাতে ছিল তৎকালীন কন্ট্রোলারের স্বাক্ষর। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় ক্ষমতা ও শিক্ষাব্যবস্থার জটিল যোগসূত্রের ইঙ্গিত। সত্য, ষড়যন্ত্র আর রাজনৈতিক প্রভাবের জালেই এগোতে থাকে ছবির কাহিনি। এই রহস্যঘন আবহেই গড়ে উঠেছে চরিত্রগুলির বিন্যাস। নিখোঁজ মনীষা সেনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর স্বামীর চরিত্রে দেখা যাবে স্বয়ং পরিচালককে। রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় রয়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, যা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকেও গল্পটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। এক সংবাদ পোর্টালের প্রতিনিধি ও ইন্টার্ন চরিত্রের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় চাপা পড়ে থাকা সত্য। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন কুণাল ঘোষ, যিনি একেবারে ভিন্ন অবতারে পর্দায় হাজির হয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন ব্রাত্য বসু সহ আরও একঝাঁক অভিনেতা অভিনেত্রী, যাঁরা প্রত্যেকে নিজেদের চরিত্রে গল্পের শরীরে গভীরতা এনেছেন। বাস্তবের সঙ্গে নাটকীয়তার এই মেলবন্ধন ছবিটিকে শুধুমাত্র একটি থ্রিলার না রেখে সামাজিক দলিলের মর্যাদা দিয়েছে।

প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর্পূর কেবল রহস্যের গল্প নয়, এটি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এক বিস্মৃত অধ্যায়ের প্রতিফলন। যেখানে সত্য আর অজানার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রশ্ন। আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে কর্পূর। দর্শকদের প্রত্যাশা, এই ছবি হয়তো হারিয়ে যাওয়া এক সত্যের সন্ধান দেবে, অথবা আরও গভীর করে তুলবে রহস্যের অন্ধকার। বাস্তবের ছায়া মেখে তৈরি এই গল্প কতটা আলোড়ন তোলে, এখন সেটাই দেখার।