আশীষের সঙ্গে সম্পর্ক আজও অটুট! মেয়ের ভাঙা সংসার নিয়ে মুখ খুললেন শকুন্তলা বডুয়া!

অভিনেত্রী শকুন্তলা বডুয়ার কন্যা রাজশী বডুয়াকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন আশীষ বিদ্যার্থী। দীর্ঘদিনের সেই দাম্পত্যে ছিল কাজের চাপ, ভালবাসা আর দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার গল্প। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তানও। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং শেষ পর্যন্ত আলাদা হয়ে যান রাজশী ও আশীষ। বিচ্ছেদের পর আশীষ জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করলেও প্রাক্তন সম্পর্কের আবেগ যে পুরোপুরি মুছে যায়নি, তারই ইঙ্গিত দিলেন শকুন্তলা বডুয়া। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি মেয়ের বিচ্ছেদ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।

ক্লিপ স্টুডিয়োকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শকুন্তলা জানান, আশীষ ও রাজশীর সম্পর্ক এখনও সৌহার্দ্যপূর্ণ। আশীষের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খবর পেয়েই তিনি ফোন করেছিলেন। আশীষ তখন তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ও তাঁর বর্তমান স্ত্রী রূপালি ভাল আছেন। সেই সময় শকুন্তলা মেয়েকেও আশীষের খোঁজ নিতে বলেন। রাজশী জানায়, আশীষ ও রূপালি দুজনের সঙ্গেই তার কথা হয়েছে। শকুন্তলার কথায়, আশীষকে তিনি আগে যেমন ভালবাসতেন, আজও তেমনই ভালবাসেন। সম্পর্ক ভাঙলেও আবেগ যে রয়ে যায়, তা স্পষ্ট তাঁর কথায়।

এরপর মেয়ের বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শকুন্তলা জানান, সন্তান মানুষ করার সমস্ত দায়িত্ব প্রায় একাই সামলেছেন রাজশী। আশীষের কাজের ব্যস্ততায় পারিবারিক সময় কম ছিল। শকুন্তলার কথায়, আশীষ চাইতেন রাজশী তাঁর সঙ্গে সঙ্গে চলুক, তাঁর কেরিয়ার নিয়েও আশীষের ভাবনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিক। কিন্তু রাজশী নিজের মতো করে পথ খুঁজে নিতে চেয়েছিল। গায়ে গায়ে ঘোরার জীবন বা সব সময় বউ হয়ে থাকা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। এই মতের অমিল থেকেই দূরত্ব বাড়ে।

বিচ্ছেদের সময়ের কষ্টের কথাও উঠে আসে শকুন্তলার স্মৃতিতে। তিনি জানান, রাজশী যখন আশীষের বাড়ি ছাড়ছিল, তখন কাঁদতে কাঁদতে জিনিসপত্র গুছোতে দেখেছিলেন তিনি। একবার দুজনই তাঁর কাছে এসে কয়েকদিন ছিলেন। সেই সময় আশীষ মাটিতে বসে তাঁর পা ধরে কেঁদে অনুরোধ করেছিলেন, যেন রাজশীকে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো হয়। কিন্তু শকুন্তলা বুঝেছিলেন, জোর করে কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। তাই তিনি কখনও তাঁদের মাঝে হস্তক্ষেপ করেননি।

সব কিছুর পরেও শকুন্তলা জানান, আশীষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও আগের মতোই। এখনও মাঝেমধ্যে সকালে কচুরি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হন আশীষ, দেবীদি বলে পাশে বসেন। তাই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়েছে, সেটা আজও তাঁর কাছে অবাস্তব মনে হয়। উল্লেখ্য, রাজশীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালের ২৫ মে অসমের মেয়ে রূপালি বড়ুয়ার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আশীষ বিদ্যার্থী।