বাড়ির ছেলেরা আগে খাবে তারপর মেয়েরা! ‘কেন মেয়েদের খিদে পায় না?’ কমলার এ হেন প্রশ্ন চোখ খুলে দিল সমাজের! উনবিংশ শতাব্দীর চিত্র ফুটে উঠছে কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজে

স্টার জলসায় শুরু হয়েছে ধারাবাহিক ‘কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’।সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের এই ধারাবাহিকে নেই তথাকথিত কূটকাচালি, নেই শাশুড়ি বউমার ঝগড়া ঝাটি। দুই কিশোর-কিশোরীর দস্যিপনায় মোড়া এই ধারাবাহিকে রয়েছে শুধুই হাস্যরসের সম্ভার।

দর্শকরা নিখুঁত বিনোদনের অপেক্ষায় ছিলেন, তা এবার পূরণ হতে চলেছে। দুই কিশোর-কিশোরীর দস্যিপনায় মোড়া ভালোবাসার এই ধারাবাহিকে ব্রিটিশ শাসনকালের আমলের গল্প দেখানো হচ্ছে। যা বর্তমান সমাজের প্যাঁচালো গল্প আর পরকীয়ার থেকে একেবারেই আলাদা।

কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ ধারাবাহিক টি উনবিংশ শতাব্দীর সামাজিক চিত্রকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তখনকার দিনে প্রথম এবং প্রধান ছিলেন পুরুষেরা। তখনকার পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সবকিছুর প্রথম অধিকার দেওয়া হতো পুরুষদের। দুপুরবেলা আগে পুরুষেরা খেতেন তারপর খেতে বসতেন তাদের স্ত্রীরা। কখনো কখনো স্বামীর এঠো থালায় পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট ভাত খেয়েই সারতে হতো তাদের মধ্যাহ্নভোজন।

এদিনের পর্বে কমলার আগে খেতে বসায় বাধলো বিপত্তি। পৃথ্বীরাজের ফুল পিসি কিছুটা ইচ্ছে করেই মজা দেখার জন্য কমলাকে ভাতের থালা দিয়ে পাঠিয়ে দেয় খাওয়ার জন্য। কমলার খুব খিদে পেয়ে গিয়েছিল কারণ বাড়িতে তারা সব সময় তাড়াতাড়ি এবং একসঙ্গে খেতে বসতো। প্রথম গ্রাসটা মুখে তোলার আগেই মুখের সামনে থেকে একটা অভুক্ত শিশুর ভাতের থালা সরিয়ে নিয়ে শাশুড়ি মা বলেন পুরুষদের আগে মেয়েদের খেতে নেই।

ঘটনাটি অবাস্তব নয়, উনবিংশ শতাব্দীতে প্রত্যেকটা বাড়ির গৃহিণী সাথে এই ঘটনা ঘটত। কমলার মায়া ভরা মুখ দেখে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কষ্টই পেয়েছেন দর্শকরা। ব্রাহ্মণ সন্তান নয় বলে মায়ের মন্দিরে ঢোকারো অনুমতি নেই তার। আগেকার দিনে পক্ষপাতিত্ব জাত পাত বর্ণ বিশ্লেষণ এতটাই তীব্র ছিল যা আজকের দিনে দেখলে মানুষের চোখে জল আসতে বাধ্য।