বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে যে অন্ধকার লুকিয়ে থাকে, তা নিয়ে আগেও মুখ খুলেছেন বহু তারকা। সাফল্যের আলো যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রত্যাখ্যান, অপমান এবং ভয়াবহ মানসিক চাপে ভরা কিছু অধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় নাম জুড়লেন ‘শারারত গার্ল’ নামে পরিচিত অভিনেত্রী আয়েশা খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। শুধু কাজ হারানো নয়, ব্যক্তিগতভাবে হুমকির শিকার হওয়ার কথাও অকপটে বলেছেন তিনি। তাঁর এই স্বীকারোক্তি আবারও প্রশ্ন তুলেছে গ্ল্যামার জগতের নিরাপত্তা ও মানসিক পরিবেশ নিয়ে।
আয়েশা জানান, একটি মিউজিক ভিডিয়োর জন্য তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল, যা প্রযোজনা করার কথা ছিল T-Series। কাজটি নিয়ে তিনি যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগের দিন আচমকা তাঁকে জা
নানো হয়, তিনি আর এই প্রজেক্টের অংশ নন। এই সিদ্ধান্তে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। কারণ কোনও আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়ার ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু সময় ও পদ্ধতি কখনও কখনও শিল্পীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে দেয়।
সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছিল যে কারণ দেখিয়ে তাঁকে সরানো হয়েছিল, সেটাই। আয়েশার দাবি, তাঁকে বলা হয়েছিল তাঁর চেহারা নাকি ভারী, ফলে ক্যামেরায় নাকি ভালো লাগবে না। এই মন্তব্য তাঁকে ভীষণভাবে আহত করে। তাঁর প্রশ্ন, যদি এমন সমস্যা থেকেই থাকে, তবে তা শুটিংয়ের আগের দিন হঠাৎ করে চোখে পড়ল কেন। তার আগে কি তা নজরে আসেনি। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়ে দেয়, গ্ল্যামারের দুনিয়ায় বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে বিচার কতটা নির্মম হতে পারে।
তবে শুধু পেশাগত ধাক্কাই নয়, ব্যক্তিগত স্তরেও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন আয়েশা। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হতো। যে কোনও ছবি পোস্ট করলেই ভেসে আসত অশালীন মন্তব্য। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে এক সময় ছবি পোস্ট করতেও ভয় পেতেন তিনি। একজন শিল্পীর কাছে এই মানসিক চাপ কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ সন্তানদের সঙ্গে রঙের উৎসবে মাতলেন টলিপাড়ার অভিনেত্রীরা! বাচ্চাদের প্রথম দোলে কি কি সর্তকতা অবলম্বন করলেন তাঁরা?
আয়েশা মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে দেখিয়েছে অন্ধকার দিকও। সাফল্যের চকচকে পর্দার পিছনে লুকিয়ে থাকে অপমান, অনিরাপত্তা এবং মানসিক লড়াইয়ের গল্প। তাঁর এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর এক বাস্তবতার প্রতিফলন। গ্ল্যামারের জগতকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখা হয়, তার পাশাপাশি প্রয়োজন নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশের দাবি তোলাও।





