নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক গানে তরুণ প্রজন্মের মন জয় করা গায়ক বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) আজ রাজনৈতিক ময়দানের এক আলোচিত নাম। জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল এবং ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’-এর মতো অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে কণ্ঠ দিয়ে তিনি নিজেকে সংগীত জগতের শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। সংগীতের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ অভিনেতা এবং মঞ্চ সঞ্চালক হিসেবেও সুপরিচিত। তবে গত কয়েক বছরে তার গায়ক পরিচয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক পরিচয়।
সংগীতের সোনালী ক্যারিয়ারের মাঝেই ২০১৪ সালে রাজনীতিতে আকস্মিক অভিষেক ঘটে বাবুল সুপ্রিয়র। তৎকালীন বিজেপি নেতা রামদেবের অনুপ্রেরণায় তিনি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়েন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন এবং বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তার ক্যারিয়ারে যেমন নতুন মোড় এনেছে, তেমনি তাকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রেও দাঁড় করিয়েছে।
সম্প্রতি এবিপি আনন্দের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাংবাদিকদের একটি তীক্ষ্ণ প্রশ্নে মেজাজ হারিয়েছেন এই গায়ক-মন্ত্রী। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিত্ব থেকে তাকে কেন রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে বা তিনি কি এখন আর তৃণমূলের ‘প্লেয়িং ইলেভেনে’ নেই তখনই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের সাথে তার এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং শরীরী ভাষা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল। তিনি প্রশ্নকর্তাকে পালটা আক্রমণ করে বলেন যে, এ ধরনের প্রশ্নের কোনো মানে হয় না এবং সাংবাদিক যা খুশি লিখতে পারেন।
ভিডিওটিতে আরও দেখা যায়, বাবুল সুপ্রিয় এক পর্যায়ে এতটাই বিরক্ত হন যে তিনি সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করার নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন যে, তার অনুমতি ছাড়া কোনো ভিডিও চালানো যাবে না এবং ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন যে কেন তার অনুমতি ছাড়াই রেকর্ড করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ কি না, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ শুটিং কম্পিটিশনে মা-মেয়ের সংঘাত! রাঙামতীর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর ছক কষছে বিহু!
পরিশেষে বলা যায়, একজন শিল্পমনস্ক মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও রাজনীতির কঠিন পিচে বাবুল সুপ্রিয়কে মাঝেমধ্যেই মেজাজ হারাতে দেখা যায়। ১০ লক্ষেরও বেশি ভিউ হওয়া এই ভিডিওটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের পরিবর্তনের প্রশ্নগুলো অনেক সময়ই তাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূলের অন্দরে তার বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা চললেও, তার এই মেজাজ হারানো সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।





