বলিউডে ‘নায়ক’ শব্দের অর্থ কি বদলে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ প্রশ্নই তুললেন অজয় দেবগণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনকার জনপ্রিয় অভিনেতাদের বেশির ভাগই তাঁর চোখে শুধু “ছেলে”, পুরুষ নয়। তাঁর কথায়, আজকের নায়কদের মধ্যে সেই দৃঢ়তা, উপস্থিতি বা ব্যক্তিত্ব অনেকটাই কমে এসেছে, যা এক সময় দর্শকদের পর্দায় নায়কের শক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনুভব করাত। এই বক্তব্য সামনে আসতেই নেটদুনিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন করে পুরুষত্ব, নায়কত্ব এবং পর্দার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা।
অজয় বলেন, বড় শরীর বা পেশি থাকলেই কেউ ‘পুরুষ চরিত্র’ হয়ে ওঠে না। একজন নায়কের ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে তার অ্যাটিটিউড, স্ক্রিন প্রেজেন্স এবং চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতার উপর। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অক্ষয় কুমার যখন একসঙ্গে দশজনকে হারিয়ে দিতেন, বা সানি দেওল যখন হ্যান্ডপাম্প তুলে ফেলতেন, তখন দর্শক তা বিশ্বাস করতেন। কারণ তাঁদের মধ্যে ছিল এমন এক শক্তির ছাপ যেটা মানুষকে দৃশ্যে আস্থা রাখতে বাধ্য করত। কিন্তু বর্তমানে নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাসটি ক্রমেই薄 হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
অজয় অবশ্য কারও নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর মতে এটা পুরোপুরি প্রজন্মগত পরিবর্তন। আজকের অভিনেতারা যে পরিবেশে বড় হচ্ছেন, যে জীবনযাপন করছেন, সেটাই তাদের মানসিকতা ও আচরণে বড় প্রভাব ফেলেছে। তাই তাদের নায়ক চরিত্রেও সেই দৃঢ়তা বা ওজন আগের মতো ধরা পড়ে না। তিনি এটাও জানান যে এই মন্তব্য কোনও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং পুরো যুগ বদলের একটি পর্যবেক্ষণ।
এই মন্তব্যে বলিউডে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই বলছেন, দর্শকের রুচি পরিবর্তন হওয়ার ফলে নায়কদের চরিত্রায়নও বদলে গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, গল্পের ধরন ও চিত্রনাট্যই আজ ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই পুরনো দিনের মতো পর্দায় নায়কের অতিমানবীয় শক্তি দেখানো হয় না। আবার অনেকে মনে করছেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের অভিনয় বা উপস্থিতির মধ্যেই আগের নায়কদের মতো কর্তৃত্ব নেই। কোন দিকটি বেশি সত্যি—সেটাই এখন তর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
আরও পড়ুনঃ অহনার স্মৃতিমাখা পোস্টে আবার ফিরে এল ‘মিশকা’! অনুরাগের ছোঁয়া-র খলনায়িকাকে আজও ভুলতে পারেনি বাংলার দর্শক!
এরই মধ্যে অজয় দেবগণ ব্যস্ত রয়েছেন একাধিক নতুন প্রকল্পে। বর্তমানে তিনি ‘রেঞ্জার’ ছবির শুটিং করছেন। এরপর শুরু হবে দুই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দৃশ্যম ৩’ এবং ‘গোলমাল ফাইভ’-এর প্রস্তুতি। শোনা যাচ্ছে, এ সবের পাশাপাশি তিনি নতুন এক হরর-কমেডিতেও কাজ করতে পারেন। কন্নড় পরিচালক জে.পি. তুমিনাডুর গল্প তাঁকে ভীষণ আগ্রহী করেছে। অজয়কে এমন ঘরানায় আগে খুব একটা দেখা যায়নি, তাই এই সম্ভাব্য ছবিটি তাঁর কেরিয়ারে এক নতুন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।





