বলিউডের কালজয়ী সিনেমার তালিকায় ‘শোলে’ আজও প্রথম সারিতে। সেই ছবিতে জয় এবং বীরুর অবিনাশী বন্ধুত্ব এক প্রজন্ম নয়, বহু প্রজন্মকে ছুঁয়ে গেছে। পর্দায় যে বন্ধু মৃত্যুর কাছে হেরে যায়, বাস্তবে সেই গল্প উল্টে গেল। এবার সত্যিই ‘জয়’ অমিতাভ বচ্চন হারালেন তাঁর প্রিয় বন্ধু ‘বীরু’ ধর্মেন্দ্রকে। এই বিদায় শুধু এক কিংবদন্তির মৃত্যু নয়, বরং এক যুগের অবসান।
বন্ধুর প্রস্থান অমিতাভকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। শেষযাত্রায় নীরবে উপস্থিত ছিলেন তিনি, ঠিক যেমন নিঃশব্দে বয়ে যাচ্ছিল আবেগ। এতদিন কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও অবশেষে ভ্লগে ভেঙে পড়লেন অভিনেতা। তিনি লেখেন, আরেকজন সাহসী কিংবদন্তি চলে গেলেন। এমন এক নীরবতা রেখে গেলেন যা ওলটপালট করে দেয় ভেতরটা। তাঁর চলে যাওয়া ভীষণ ভারী করে দিল চারপাশকে।
অমিতাভ আরও লেখেন, ধর্মজি শুধু তাঁর খ্যাতির জন্য নন, তাঁর অদ্ভুত সরলতা এবং বিশাল মনের জন্য চিরস্মরণীয়। তাঁর হাসি, হৃদ্যতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। পাঞ্জাবি প্রানময়তা, গ্রামের মাটির গন্ধ, অকৃত্রিম আচরণ— সবটাই তিনি বহন করতেন সিনেমার আড়ালেও। সময় এবং ইন্ডাস্ট্রি বদলেছে, কিন্তু ধর্মেন্দ্র বদলাননি। তাঁর এই সত্যতা এবং উষ্ণতা ছিলই তাঁর আসল শক্তি।
অমিতাভের মতে, ধর্মেন্দ্রর অভাব শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়, বরং সিনেমার ইতিহাসে এক বিশাল ফাঁক। তিনি লিখেছেন, চারপাশ যেন এখন শূন্য। এমন এক শূন্যতা যা হয়তো কোনওদিনই পূরণ হবে না। অমিতাভের ভাষায়, বীরু চলে গেছে, কিন্তু তাঁর প্রতিধ্বনি রয়ে গেছে স্মৃতি, গান এবং বন্ধুত্বের গল্পে।
আরও পড়ুনঃ রহস্যে মোড়া বিদায়! নিভৃতে হারিয়ে গেলেন হি-ম্যান! প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্র!
১৯৭৪ সালে ‘দোস্ত’ দিয়ে শুরু হওয়া তাঁদের বন্ধুত্ব পরে ‘চুপকে চুপকে’, ‘রাম বলরাম’, ‘হাম কৌন হ্যায়’ এবং অবশ্যই ‘শোলে’-তে অমর হয়ে গেছে। নায়ক বনাম নায়িকার যুগেও, অমিতাভ-ধর্মেন্দ্র জুটি হয়ে উঠেছিল মানুষের শক্ত, অটুট বন্ধুত্বের প্রতীক। আজ সে বন্ধুত্ব সময়ের কাছে থেমে গেলেও, তাদের গল্প বেঁচে থাকবে পর্দায় এবং দর্শকের হৃদয়ে।





