বলিউডের ক্ষমতার বদল! রহমানের অভিযোগ ‘যারা সৃজনশীল নয় তাদের হাতেই এখন সব ক্ষমতা…’ সৃজনশীলতার জায়গা দখল করেছে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ!

দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি বলিউডেও অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন সুরকার এ আর রহমান। জাতীয় আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভরা তাঁর ঝুলি। তবুও গত আট বছরে হিন্দি ছবিতে তেমন কাজ না পাওয়ার বাস্তবতা নিয়ে মুখ খুললেন অস্কারজয়ী শিল্পী। তাঁর মতে বলিউডের ক্ষমতার কেন্দ্র বদলে গিয়েছে, সৃজনশীল মানুষের হাত থেকে সিদ্ধান্তের ভার চলে গিয়েছে অন্যদের হাতে।

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, হিন্দি ছবির জগতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন আর সুরকাররা স্বাধীন ভাবে গান তৈরি করেন না। গান তৈরি করছে মিউজিক লেবেল ও কর্পোরেট সংস্থা। কোন গান হবে, কেমন সুর হবে সব কিছু নির্ধারণ করছে সেই শক্তিকেন্দ্র। এই কারণেই বহু প্রতিভাবান সুরকার পর্যাপ্ত কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁর মত।

কাজ কম পাওয়ার নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক বিষয়ও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রহমান। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁকে সরাসরি কেউ কিছু বলেনি। সবটাই শোনা কথা। তবুও এই পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের মতো করে সৃজনশীল চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের তুলনায় অনেক শান্তিতে রয়েছেন এবং কারও কাছে কাজ চাইতে যাননি বলে অকপট স্বীকারোক্তি।

রোজা বম্বে দিল সে এর মতো ছবির কালজয়ী সঙ্গীত তৈরির পরেও নিজেকে দীর্ঘদিন বলিউডে বহিরাগত মনে করতেন মাদ্রাজের মোজার্ট। তবে সুভাষ ঘাই পরিচালিত তাল ছবির পর পরিস্থিতি বদলায়। তাল এর গান ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয় এবং দক্ষিণী সুর ও হিন্দি শ্রোতার মধ্যে এক শক্ত সেতুবন্ধন তৈরি করে।

বর্তমানে কাজের পরিমাণ কম হলেও থেমে নেই রহমান। ২০২৫ সালে আনন্দ এল রাই পরিচালিত তেরে ইশক মে ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি। এর আগে অমর সিং চমকিলা ময়দান এবং ছাবা ছবিতেও তাঁর সুর শোনা গিয়েছে। সব মিলিয়ে শিল্পী হিসেবে নিজের পথেই হাঁটছেন এ আর রহমান।