গত কয়েক মাস ধরে বলিউডে ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে আলোচনায় রয়েছেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে কিছু কাজ তাঁর হাতছাড়া হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় বিভাজনের প্রভাবও থাকতে পারে। রহমানের এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিনেমা জগত ও রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অনেক তারকাই তাঁর এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন।
একটি সাক্ষাৎকারে রহমান বলেছিলেন, গত আট বছরে বলিউডে কাজের সুযোগ কিছুটা কমে গেছে তাঁর জন্য। তিনি জানান, কেউ সরাসরি কিছু বলেননি, তবে বিভিন্ন সূত্রে তিনি এমন কথা শুনেছেন যে ধর্মীয় বিভাজনের কারণেও কিছু সুযোগ হারিয়েছেন। এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাহলে কি মুসলিম শিল্পীদের জন্য বলিউডে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলেও তর্ক বিতর্ক শুরু হয়।
রহমানের এই মন্তব্যের জবাবে এবার মুখ খুলেছেন গায়ক ও সুরকার সেলিম মার্চেন্ট। তিনি বলেন, বলিউডে এভাবে ধর্মের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হয় বলে তাঁর মনে হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এবং রণবীর কাপুর অভিনীত রামায়ণ ছবির কথা। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এ আর রহমান নিজেই।
সেলিমের মতে, যদি সত্যিই ইন্ডাস্ট্রিতে ধর্মীয় বিভাজন থাকত, তাহলে রামায়ণের মতো হিন্দু মহাকাব্যের উপর নির্মিত এত বড় বাজেটের ছবিতে রহমানকে সুরকার হিসেবে বেছে নেওয়া হত না। তিনি আরও জানান, রহমানের প্রতি তাঁর যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তিনি হয়তো নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে বলিউডে এই ধরনের বিভাজনের পরিবেশ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মোহনা চরিত্রকে বিদায় কৌশাম্বি চক্রবর্তীর! নতুন ধারাবাহিক গঙ্গায় আবার ফিরছেন অভিনেত্রী!
রামায়ণ ছবিটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জানা গেছে, এই ছবির সঙ্গীত তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছেন রহমান। ফলে বলিউডে ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এখনও থামেনি এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতবিনিময় চলছে।





